

কামরুজ্জামান বাবু পোরশা প্রতিনিধি:
মানুষ বাঁচে তার কর্মের মধ্যে, বয়সের মধ্যে নয়”—এই চিরন্তন সত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর এলাকার সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম, যাকে স্থানীয়রা স্নেহভরে “আমিনুল ইসলাম মামা” নামে চেনেন। সাধারণ জীবনযাপন আর অসাধারণ মানবিক গুণাবলীর সমন্বয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার মানুষের কাছে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। নিতপুর সদর অবস্থিত নিতপুর দারুস সুন্নাহ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। শিক্ষকতা শুধু তার পেশা নয়, এটি যেন তার নৈতিক দায়িত্ব ও মানবসেবার একটি অংশ। শিক্ষার্থীদের পাঠদান, নৈতিক শিক্ষা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছেন আলোকিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নিজ বাড়ির খামারের সার্বিক দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। খামারে উৎপাদিত দুধ নিজেই বাজারজাত করেন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। কর্মকে তিনি কখনো ছোট করে দেখেন না। একজন শিক্ষক হয়েও কৃষি ও খামার ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত থাকা তার পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল জীবনের প্রতিচ্ছবি। পোরশা থানার পাশেই তার বসবাস। এলাকাবাসীর মতে, তার ব্যবহার অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদয়স্পর্শী। একবার যার সঙ্গে পরিচয় হয়,তিনি সহজে তাকে ভুলতে পারেন না।সততা, নম্রতা ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সম্মানিত ও প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন। স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সমাজে যখন অনেকেই বাহ্যিক চাকচিক্যের পেছনে ছুটছেন, তখন আমিনুল ইসলাম মামা সাদামাটা জীবনযাপন করেও কর্ম, সততা ও মানবিকতায় নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার পোশাক-পরিচ্ছদ সাধারণ হলেও চিন্তা-চেতনা ও কর্মনিষ্ঠা অসাধারণ। সমাজ সচেতন মহল মনে করেন, এমন মানুষদের গল্প নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ, তারা প্রমাণ করেন—সফলতা কেবল বড় পদ বা বিলাসী জীবনে নয়; বরং সততা, পরিশ্রম ও মানবিক গুণাবলীর মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নিহিত থাকে। সহকারী অধ্যাপক মোঃ আমিনুল ইসলাম যেন নীরবে বলে চলেছেন—মানুষ তার বয়স দিয়ে নয়, মহৎ কর্ম দিয়েই মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।










