অপরাধ

ঘাট দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৭ জন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
লক্ষ্মীপুরের ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পানির ঘাট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ঘাট নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মোঃ রাসেল বেপারী ও মোঃ সিদ্দিক সরকারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পানির ঘাট এলাকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক কার্যক্রম, চাঁদা আদায়, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে এলাকায় এক ধরনের অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।ঘটনার দিন দুপুরে উভয় পক্ষের কয়েকজন সদস্যের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা মুহূর্তেই সংঘর্ষে রূপ নেয়।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো পানির ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার জন্য নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা চেষ্টা করলেও উভয় পক্ষের উত্তেজিত সমর্থকদের কারণে সংঘর্ষ দীর্ঘসময় ধরে চলে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে গুরুতর আহতদের দ্রুত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় পুনরায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছেন বলে জানা গেছে।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘাটকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সময়মতো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় এ ধরনের সহিংস ঘটনা বারবার ঘটছে।তারা মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং গুরুতর আহতের ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা হতে পারে। এছাড়া সরকারি শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button