

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও নারীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থা সফলভাবে অতিক্রম করেছে ছয় বছর। ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের পুরান বাজারে খান’স ধাবায় সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খানের নেতৃত্ব ও স্বপ্নদ্রষ্টা আশিক খানের সার্বিক সহযোগিতায় গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি বর্তমানে চাঁদপুরে নারী উন্নয়নের এক অনন্য মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।প্রতিষ্ঠার পর টানা দুই বছর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার পর ২০২২ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ মহিলা অধিদপ্তর থেকে “বিজয়ী – নারী উন্নয়ন সংস্থা” নামে নিবন্ধন লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে চাঁদপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে “বিজয়ী – যুব নারী উন্নয়ন সংস্থা নামে নিবন্ধন সনদ অর্জন করে সংগঠনটি।২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত শত শত নারীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে বিজয়ী। কেক বেকিং, পিজ্জা তৈরি, ব্লক-বাটিক, হ্যান্ডমেড জুয়েলারি, সেলাই, বিডস ক্রাফট, ব্রাইডাল মেকওভার, অনলাইন মার্কেটিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিজয়ীর উদ্যোগে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক), যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও জাতীয় মহিলা সংস্থা-এর সহযোগিতায় একাধিক শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বহু নারী মাসে উল্লেখযোগ্য আয় করে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।সংগঠনটি কেবল উদ্যোক্তা তৈরিতেই সীমাবদ্ধ নয়; নিয়মিত মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমেও ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে—বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ বিতরণ, আই ক্যাম্প ও চক্ষু চিকিৎসা সহায়তা (বিশেষ করে বিনামূল্যে ছানি ও নেত্রনালীর অপারেশন), প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ, শিক্ষা সামগ্রী ও পোশাক প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা, পুরুষদের কর্মসংস্থানে ভ্যানগাড়ি প্রদান, বাল্যবিবাহ, নারী নির্যাতন ও যৌতুকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক পুঁজি ও উৎপাদনমুখী যন্ত্রপাতি (যেমন সেলাই মেশিন) সরবরাহ।৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর প্রেসক্লাবে নারী উদ্যোক্তা সম্মাননা প্রদান, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জন করে উদ্যোক্তা হতে হবে। শুরুটা কঠিন হলেও পরিশ্রম, মেধা ও মানসিক শক্তি থাকলে সফলতা আসবেই। নারীরা দশজন পুত্রের সমান শক্তি ধারণ করে—প্রয়োজন শুধু সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল উদ্যোক্তা, প্রেসিডেন্ট খালেদা ইয়াসমিন রুবি, এডভাইজার নিলুফার করিম, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, টিম বিজয়ী ও সহযোগীদের প্রতি তানিয়া ইশতিয়াক খান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নারী ক্ষমতায়নে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।










