

এম এ আরিফ চৌধুরীঃ
বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম মানবিক পুলিশিং ও কঠোর আইন প্রয়োগের সমন্বয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সেবামূলক ও জনবান্ধব চেতনা আরও সুসংহতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে শাহজাহানপুর থানার সার্বিক কার্যক্রমে। মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল নজির স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; বরং সাধারণ মানুষের কাছে একজন সহমর্মী অভিভাবক। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা অফিসিয়াল নম্বর খোলা রেখে নিজেই কল রিসিভ করেন। গভীর রাতেও কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেন। থানায় আগত অভিযোগকারীদের সঙ্গে তিনি ধৈর্য ও মনোযোগ দিয়ে কথা বলেন। আপনি’ সম্বোধনে সম্মান প্রদর্শন, সংযত ভাষা ও নম্র আচরণ তাঁর ব্যক্তিত্বের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ফলে থানায় সাধারণ মানুষ ভয় নয়, বরং আস্থা ও স্বস্তি অনুভব করেন। এই আচরণ পুলিশ ও জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও বিশ্বাসভিত্তিক করে তুলেছে।অপরাধ দমনে আপসহীন অবস্থান মানবিকতার পাশাপাশি অপরাধের প্রশ্নে তিনি কঠোর ও নিরপেক্ষ। দল-মত, পরিচয় বা প্রভাব নির্বিশেষে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাদক,সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট—অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই, তার পরিচয় একটাই—সে অপরাধী।” তাঁর নির্দেশনায় টহল বাহিনী নিয়মিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল জোরদার করেছে। সন্দেহভাজন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার বার্তা ওসি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তাঁর অধীনস্থ সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব আইনের প্রয়োগে প্রভাব ফেলতে পারবে না। নিয়মিত ব্রিফিং ও তদারকির মাধ্যমে তিনি পেশাগত সততা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করা যেমন কর্তব্য, তেমনি অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর হওয়াও সমানভাবে জরুরি। মানবিকতা ও কঠোরতার এই ভারসাম্যই একটি আদর্শ থানা গড়ে তুলতে পারে।ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এ বিষয়ে ওসি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু—এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। একজন অসহায় মানুষ যখন থানায় আসে, তখন তার প্রথম প্রয়োজন আস্থা ও সম্মান। আমরা সেই আস্থা ফিরিয়ে দিতে চাই। একই সঙ্গে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। দল-মত বা পরিচয় নয়, আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে জনগণের পাশে দাঁড়ানোই পুলিশের প্রধান কর্তব্য। আমার থানার প্রতিটি সদস্যকে আমি নির্দেশ দিয়েছি—মানুষের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করবে, কিন্তু অপরাধীর ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনবান্ধব থানার রূপান্তর এলাকাবাসীর মতে, তাঁর নেতৃত্বে শাহজাহানপুর থানা একটি প্রকৃত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিচ্ছে। অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী কিংবা সাধারণ নাগরিক—সকলেই এখানে সম্মান ও সহানুভূতির পরিবেশে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবিকতা ও কঠোরতার সমন্বিত এই নেতৃত্ব প্রমাণ করে—সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা থাকলে পুলিশিং হতে পারে একদিকে জনবান্ধব, অন্যদিকে অপরাধ দমনে কার্যকর ও শক্তিশালী। সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা—এ ধরনের মানবিক ও দৃঢ় নেতৃত্ব দেশের প্রতিটি থানায় বিস্তৃত হোক, যাতে জনগণ পায় নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়ভিত্তিক পুলিশি সেবা।










