

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার সাবু মাস্টারের মোড়ে “মাটি যার, অধিকার তার” স্লোগানকে সামনে রেখে কৃষকদের অধিকার ও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কৃষক সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষক সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান গাজী। তিনি বলেন, হাইমচর একটি নদীবিধৌত এলাকা হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ভূমি জটিলতা, নদীভাঙন ও দখলদারিত্বের মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।প্রকৃত চাষিদের হাতে জমির মালিকানা নিশ্চিত করা এবং খাস জমি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা সময়ের দাবি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম বেপারী বলেন, কৃষকদের টেকসই উন্নয়নের জন্য সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ভর্তুকি বৃদ্ধি, সার ও বীজের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ অত্যন্ত জরুরি।তিনি কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এস এম পারভেজ তার বক্তব্যে বলেন, “মাটি যার,অধিকার তার” কেবল একটি স্লোগান নয়—এটি কৃষকের ন্যায্য অধিকারের প্রতীক। গণমাধ্যম ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে কৃষকদের সমস্যা তুলে ধরলে প্রশাসনের নজরদারি বাড়বে এবং সমাধানের পথ সুগম হবে। এসময় দপ্তর সম্পাদক জসীম উদ্দিন লিটন সরকার, প্রচার সম্পাদক মোঃ ফারুকুল ইসলাম হাওলাদার, নির্বাহী সদস্য আবু সুফিয়ান এবং নির্বাহী সদস্য তবিবুর রহমান রাশেদ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আইনি সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করা হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চরভৈরবীর কৃতি সন্তান ও ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-সমাজসেবক মোঃ খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, কৃষি খাত শক্তিশালী না হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সভায় এলাকার উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।আলোচনা শেষে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও হাইমচরের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










