অপরাধ

কুমিল্লা আদালতকেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রে নারী সাংবাদিক কারাবন্দি: বিচার বিভাগের অপব্যবহারের অভিযোগ।

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা জুডিশিয়াল আদালতকে কেন্দ্র করে। কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ হিসেবে এক নারী সাংবাদিককে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মহল ও মানবাধিকারকর্মীরা।ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোসাঃ সালমা আক্তার জাতীয় দৈনিক ভোরের সময় পত্রিকায় দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছিলেন। পেশাগত কাজের সূত্রে কুমিল্লা আদালতের এক পেশকার মোঃ গোলাম কবিরের সঙ্গে পরিচয়ের পর তিনি শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়।এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সালমা আক্তার কুমিল্লার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রতিশোধ শুরু হয় বলে দাবি করা হয়।২৬ আগস্ট আদালত প্রাঙ্গণে সংঘবদ্ধ হামলা, শ্লীলতাহানি ও বেআইনি আটক করার পর তাকে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।জামিন পাওয়ার পরও হয়রানি বন্ধ না হয়ে পরবর্তীতে আরও একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।এতে করে সালমা আক্তার মোট তিন মাস সাত দিন কারাভোগ করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সংবিধানে নিশ্চিত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন।এর আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর গুলিবর্ষণের ভিডিও ধারণ করায় সালমা আক্তার হামলা, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হন।ওই ঘটনায় একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।ঘটনাটি নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা,বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button