চাঁদপুর

চাঁদপুরে পাউবোর প্রকল্প ঘিরে অপপ্রচার: তদন্তে মিললো গুজবের প্রমাণ।

মোঃ ইসমাইল হোসেন চাঁদপুরঃ
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর একটি বড় প্রকল্পকে ঘিরে সম্প্রতি যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে, তা তদন্তে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, মতলব উত্তরের ফরাজীকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পাউবোর প্রায় ৮ কোটি টাকার ফেরো সিমেন্ট স্ল্যাব নির্মাণ কাজে অনিয়ম চলছে। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরেজমিন পরিদর্শন, দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে—উক্ত স্থানে বর্তমানে পাউবোর কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়নাধীন নেই।জানা গেছে, পাউবোর যে প্রকল্পটির কথা বলা হচ্ছে, সেটির অবস্থান ফরাজীকান্দি থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে মতলবের কালীপুর এলাকায়। অথচ একটি ভিন্ন স্থানের ব্যক্তিগত কাজকে সরকারি প্রকল্পের সাথে গুলিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে, যা জনসাধারণকে ভুল পথে পরিচালিত করার শামিল।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ফরাজীকান্দি মাঠে যে স্ল্যাবগুলো তৈরি হতে দেখা গেছে, সেগুলো কোনো সরকারি প্রকল্পের অংশ নয়। স্থানীয়ভাবে জনাব আজিজ নামের এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছু স্ল্যাব তৈরি করেছেন। এতে কোনো সরকারি অর্থ বরাদ্দ, টেন্ডার প্রক্রিয়া কিংবা পাউবোর সম্পৃক্ততা নেই। ফলে এখানে দাপ্তরিক অনুমোদনের প্রশ্নও ওঠে না।এ বিষয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও দশ গ্রাম পানি ব্যবস্থাপনা দলের সভাপতি ইয়াসিন মোল্লা এবং বিএনপি নেতা গনি তপদার জানান, “এখানে বর্তমানে পাউবোর কোনো কাজ চলমান নেই। যদি সরকারি কোনো প্রকল্প থাকতো, তাহলে আমরা অবশ্যই অবগত থাকতাম। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরাও একই বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাহী ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীরা তদন্ত শেষে নিশ্চিত করেছেন, ফরাজীকান্দিতে চলমান স্ল্যাব নির্মাণের সাথে পাউবো বা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির এন্ড কোং-এর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় তাদের কোনো কাজ নেই এবং প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে এ ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের সাম্প্রতিক বদলিকে ঘিরেও নানা গুজব ছড়ানো হয়। তবে নথিপত্রে দেখা যায়, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার সাথে এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার দায়িত্বাধীন ফেরোসিমেন্ট কাজ গত বছরের নভেম্বরে শেষ হয়েছে।আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু অসাধু চক্র তাদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, টেন্ডারে অংশগ্রহণে ব্যর্থ কিছু অসাধু ঠিকাদার এবং পূর্বের সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অপপ্রচার রোধে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ এবং গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসাথে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে তা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। সার্বিকভাবে বলা যায়, চাঁদপুরে পাউবোর প্রকল্প ঘিরে ছড়ানো অভিযোগ বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; বরং এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, যা ইতোমধ্যেই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button