আইন-আদালত

পেশাদারিত্ব দমনে অপসাংবাদিকতার নোংরা খেলা- সাংবাদিক সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার দাঁতভাঙ্গা জবাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লাঃ
গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ-এর অনলাইন সংস্করণে আমাকে জড়িয়ে অবশেষে স্বঘোষিত সাংবাদিক সালামা আক্তার সখিনা শ্রীঘরে, শিরোনামে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে, তা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই সংবাদটি কেবল তথ্যের অপলাপ নয়, বরং একজন নারী সংবাদকর্মীর সাহসিকতাকে দমন করার জন্য একটি সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি এই মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি। সংবাদটিতে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে আমার প্রকৃত নাম ‘সালমা আক্তার’এর সঙ্গে ‘সখিনা’ যুক্ত করে আমাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একজন পেশাদার সংবাদকর্মীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার এই অপকৌশল প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক কোনো প্রকার পেশাদারিত্ব ছাড়াই এই ফরমায়েশি সংবাদটি তৈরি করেছন।সংবাদে চাঁদাবাজির যে কাল্পনিক অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে পত্রিকাটি। প্রকৃতপক্ষে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে এবং যারা ছাত্রদের ওপর হামলার তথ্য গোপন করতে লিপ্ত ছিল, আমি তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সোচ্চার ছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই দাউদকান্দির কতিপয় সুবিধাভোগী ও পথভ্রষ্ট ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ‘মব ভায়োলেন্স’ সৃষ্টি করে আমাকে আটক ও নির্যাতন করে। পুলিশ কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা পরোয়ানা ছাড়াই আমাকে থানায় নিয়ে যায়, যা বর্তমান সময়ে অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার শামিল। দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ভোরের সূর্যোদয়-এর শামীম রায়হানের সঙ্গে আমার পেশাগত আদর্শিক বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে এবং আমার সত্যনিষ্ঠ লেখনীকে থামিয়ে দিতেই তিনি জনকণ্ঠের সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে এই মিথ্যা সংবাদটি পরিবেশন করিয়েছেন।তথাকথিত ‘স্থানীয়দের অভিযোগ’ বলে যে অংশটি সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত একদল চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহলের কণ্ঠস্বর, সাধারণ মানুষের নয়। একজন নারী সংবাদকর্মী হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক ‘ভোরের সময়’-এর হয়ে কাজ করছি। আমার চরিত্র নিয়ে সংবাদে যে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা শুধু আমার নয়, বরং সমগ্র নারী সাংবাদিক সমাজ এবং মাতৃত্বের অবমাননা। সত্য প্রকাশে দাপটের সাথে চলাফেরা করা যদি অপরাধ হয়, তবে সেই অপরাধে আমি গর্বিত। কিন্তু জালিয়াতি বা প্রতারণার যে তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তার বিন্দুবিসর্গ প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি আমি।হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা সফল হতে দেব না। যারা তথ্যের বাছবিচার না করে এই ধরণের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি অত্র প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে পাঠকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই মানহানিকর সংবাদটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিবাদকারী: সালমা আক্তার কুমিল্লা প্রতিনিধি, দৈনিক ভোরের সময়।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button