

মোঃ নুরনবী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১নং পারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারিয়া গ্রামের বহু আলোচিত ও কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, মানব পাচারকারী ও চোরাকারবারি সাইদুর রহমান অবশেষে বিজিবির হাতে ধরা পড়েছে। রত্নাই বিওপির (BOP) গোয়েন্দা ইউনিটের এক সফল অভিযানে তাকে আমজানখোর সীমান্ত থেকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইদুর রহমান বহু বছর ধরে পারিয়া ও আশপাশের এলাকায় মাদক, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্যের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সীমান্তের সুবিধা নিয়ে সে মানব পাচার এবং ভারতীয় চোরাই মাল পাচারের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে।
তাকে নিয়ে রয়েছে একাধিক অস্ত্র ও মাদক মামলার ইতিহাস, কিন্তু প্রভাব, ভয়ভীতি ও অপার প্রশাসনিক সুযোগ নিয়ে বহুবার আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেছে সে। কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন ও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন যৌথভাবে তার বাড়িতে অভিযান চালালেও সে কৌশলে পালিয়ে যায়।
গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রত্নাই বিওপির ইন্টেলিজেন্সি বিভাগের হাবিলদার জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি টিম সীমান্ত এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকে। সাইদুর রহমান মাদক পাচারের জন্য সীমান্তে আসলে বিজিবি তাকে ঘিরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার আগে বালিয়াডাঙ্গী থানার সদ্য বদলি প্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মো. জাকারিয়া মন্ডল এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার দেবনাথ এর নেতৃত্বে এলাকায় অপরাধ দমনে বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়েছে। সাইদুরের মতো অপরাধীদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকায় বিজিবি ও পুলিশের এই সমন্বিত প্রয়াস এলাকাবাসীর আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উল্লাস ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে সাইদুরের ভয়ে মুখ বন্ধ রাখা সাধারণ মানুষ বিজিবি ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একজন প্রবীণ গ্রামবাসী বলেন,আমরা ভাবতাম ওকে কেউ ধরতেই পারবে না। আজ মনে হচ্ছে, বিচার এখনো হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাইদুর নয়—তার সহযোগী, পাচার চক্রের মূল হোতা ও আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। এই গ্রেপ্তার যেন অপরাধ দমনের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে—এটাই এখন বালিয়াডাঙ্গীবাসীর প্রত্যাশা।










