

বিশেষ প্রতিবেদনঃ
যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনোয়ারা খাতুন নামে এক প্রাক্তন সেবিকার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ডাক্তার হাসিব মোহাম্মদ আলী হাসানের পক্ষে কাজ করছে গঠিত তদন্ত কমিটি। চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তদন্ত কমিটি। প্রত্যক্ষদর্শীদেরকে না ডেকে তদন্ত কমিটি ডাকছে ওই সময় যারা ছিলেন না তাদেরকে। অনুপস্থিত কর্মকর্তা কর্মচারীরাও সাফাই গাচ্ছেন ডাক্তার হাসিবের পক্ষে। এসব অভিযোগ এনে গঠিত তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃত সেবিকার স্বামী খন্দকার মাসুদুল হক। শনিবার (৩ মে) তিনি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিতভাবে একটি আবেদন দাখিল করে তদন্ত বোর্ড বাতিল করে নতুন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।আবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুর রশীদ এবং সদস্য মধুসূদন পাল, হাবিবা সিদ্দিকী ফোয়ারা, বজলুর রশিদ ও বিচিত্র মল্লিকের সাথে অভিযুক্ত চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ সম্পর্কের কারণে তদন্তে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে মাসুদুল হকের অভিযোগ। কমিটি এমন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য নিচ্ছেন যারা ঘটনার সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে উপস্থিতই ছিলেন না। এর মাধ্যমে প্রকৃত সত্য আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তদন্ত কমিটি যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছে, তা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ না। ডাঃ হাসিবকে রক্ষার উদ্দেশ্যে পক্ষপাতদুষ্টভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদনের অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যশোর জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ১০টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল আনোয়ারা খাতুনকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বরত চিকিৎসক যথাযথভাবে রোগীকে দেখেননি এবং সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ায় তিনি মারা যান। এ বিষয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হোসাইন সাফায়াত বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। এর মাঝে তদন্ত নিয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। আমরা সেটা গ্রহণ করেছি এবং আমলে নিয়েছি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, তখনকার সিসি টিভি ফুটেজ সহ তদন্তের স্বার্থে সব কিছুই তারা সংরক্ষণ করেছেন। তদন্ত-পূর্বক অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।










