অভিযোগ

মানিকগঞ্জে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ।

আল মামুন মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলাতে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। অবৈধভাবে সড়কের পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে তিন ফসলি জমিতে রাতারাতি স্থাপন করা হচ্ছে ইটভাটা। এতে স্বাস্থ্য ঝুকির পাশাপাশি মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ। সরকারি আইন অমান্য করে দিনের পর দিন ইটভাটার সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছে। ভুক্তভোগী এবং পরিবেশবাদিরা পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যত্রতত্র ইটভাটা গড়ে উঠায় এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিচ্ছে।
মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৭টি উপজেলাতে মোট ইটভাটার সংখ্যা ১২৪টি। এর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে চলছে ১০৪টি। বাকি ২০টি পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে ইটভাটা গড়ে উঠছে। গত বছরে অবৈধ লেনদেনের কারনে পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাককে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ মানিকগঞ্জের পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে। বায়ু দুষণ ও জনগনের শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি,স্ট্যান্ডার্ড চিমনি না থাকায় ধেঁায়া নিচু স্তরে ছড়িয়ে পরছে। গ্রামঞ্জের মানুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আইন অমান্য করে বিগত বছর গুলোতে পোড়ানো হয়েছে কাঠকড়ি। আর এসব ইটভাটার কালো ধোয়ায় বিষিয়ে উঠেছে জনজীবন। মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর, সাটুরিয়া, ঘিওর এলাকায় তিন ফসলি জমিতে অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে। রাতের আধারে ড্রামট্রাক ও শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি এনে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে।সড়কগুলোতে অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। ইটভাটা থেকে নির্গত ধেঁায়া ও ধুলাবালি শ্বাসপ্রশ্বাাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করলে অ্যাজমা, এলার্জি ,হাঁপানিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ মানবদেহে প্রবেশ করে। ইটভাটার আশপাশের বসবাসরত লোকজনের স্বাস্থ্যগত মারাত্মক ঝঁুকি দেখা দেয়।সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নে বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পরিচালিত এসমস্ত ইট ভাটার কারণে মারাত্মক দুষণের মুখে পরেছে পুরো ইউনিয়ন। ধেঁায়া, ধুলা ও বিষাক্ত গ্যাসে অতিষ্ট হয়ে পরেছে সাধারন মানুষের জীবন যাপন। স্থানীয় লোকজন জানায়, ইটভাটা থেকৈ নির্গত কালো ধোয়ায় শ্বাসকষ্ট চোখ জ্বালা, চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। অপর দিকে কৃষি জমির উর্দরতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফসলের ফলন কমে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির আশে পাশে ইটভাটা থাকায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ভাটার কার্যক্রম বেড়ে গেলে পুরো এলাকা ধেঁায়ায় ঢেকে যায়। দিনের পর দিন সূর্যের আলো পর্যন্ত দেখা যায় না বলে এলাকার লোকজন জানান। মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ রাষ্ট্র বিজ্ঞানের (অনার্স) ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা ভয়াবহ দুষিত হচ্ছে। অপর দিকে ইট বোঝাই ট্রাক গ্রামে চলাচল করায় সরকারি রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সকল অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা জরুরী। মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক (খামারবাড়ি) বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মানের অনুমতি কৃষি বিভাগ থেকে দেওয়া হয়না। কৃষি জমিতে ইটভাটা হলে কৃষি জমির মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হয়। মানিকগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইটভাটা যত কম থাকবে পরিবেশ ততোটাই ভাল থাকবে। আমি যোগদান করার পরে মানিকগঞ্জে চারটি অবৈধ ইটভাটাকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জড়িমানা করা হয়েছে। তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button