অভিযোগ

রায়পুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৭ জন, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ।

লক্ষ্মীপুর রায়পুর নিজস্ব প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।এ সময় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বিচার দাবি জানিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জ বাজার এলাকায় এ সহিংস ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চর আবাবিল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নাছির উদ্দিন বেপারি (৭০) এবং তার ছেলে মোশারফ হোসেনসহ আরও কয়েকজন। গুরুতর আহত চেয়ারম্যানের মাথা, মুখ ও পায়ে একাধিক স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাছির বেপারি ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আমিন উল্লাহ বেপারির প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাবেক চেয়ারম্যান নাছির বেপারি ও তার স্বজন, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার বেপারির মধ্যে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি জমির হিসাব নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন নাছির বেপারি। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে হায়দরগঞ্জ বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উভয় পক্ষ বৈঠকে বসেন।বৈঠকের এক পর্যায়ে তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুস সাত্তার বেপারি, জোবায়ের, জাকির, আবদুল আজিজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে নাছির বেপারির ওপর হামলা চালায়। এ সময় প্লাস্টিকের চেয়ার ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে মোশারফ হোসেনকেও নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়। হামলার সুযোগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ ওঠে।অপরদিকে প্রতিপক্ষের দাবিতে বলা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের পক্ষের আব্দুস সাত্তার বেপারি, জাকির হোসেনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।এ ঘটনায় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি এখনও থমথমে থাকায় এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা বিরাজ করছে।রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।তবে ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button