

মোঃ হারুনুর রশিদ সংবাদদাতা, সাভারঃ
সাভারের ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেনকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে। গ্রাম পুলিশ নিয়োগে অনিয়ম, বহিরাগতকে নিয়োগ, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, বদলি কার্যকর না হওয়া এবং সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করতে অর্থ ব্যয়ের মতো নানা অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ পদে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মঈনুদ্দিন ফকিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়েও কীভাবে তার নিয়োগ হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। নিয়োগের সময় ঠিকানা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্ত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেনের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর উত্তরখান মাজারের বিপরীত পাশে তার একটি চারতলা বাড়ি রয়েছে।একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয় ও সম্পদের হিসাবের সঙ্গে ওই সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাড়িটির মালিকানা, নির্মাণ ব্যয় এবং অর্থের উৎস যাচাইয়েরও দাবি উঠেছে।অন্যদিকে, বিভিন্ন অনিয়ম ও সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়—এমন একটি অভিযোগ ও গুঞ্জন স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ দাবির স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি যাচাই করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া জানা গেছে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অংশ হিসেবে বদলি সংক্রান্ত লটারিতে আফজাল হোসেনের নাম এলেও পরবর্তীতে তার বদলি কার্যকর হয়নি। কেন বদলি কার্যকর হয়নি এবং এর পেছনে প্রশাসনিক কোনো কারণ বা প্রভাব ছিল কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।্তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তারা গ্রাম পুলিশ নিয়োগের নথি, প্রার্থীর স্থায়ী ঠিকানা, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী, প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পদের হিসাব এবং বদলি সংক্রান্ত সরকারি নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।তাদের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো অসত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নেরও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আফজাল হোসেনের বক্তব্য জানা সম্ভব হলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।










