গণমাধ্যম

সাংবাদিক সংগঠন বাড়ছে, বাড়ছে কি সাংবাদিকতার মান?

আওরঙ্গজেব কামাল:
প্রেসক্লাব ও সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি।দেশে দিন দিন বাড়ছে সাংবাদিকের সংখ্যা। একই সঙ্গে রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ছে প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, রিপোর্টার্স ক্লাব, অনলাইন সাংবাদিক সংগঠনসহ নানা ধরনের পেশাজীবী সংগঠন। নতুন নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ নিঃসন্দেহে সাংবাদিকদের সাংগঠনিক অধিকার ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষার একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।তবে এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও সামনে এসেছে—সাংবাদিক সংগঠনের সংখ্যা যতটা বাড়ছে, সাংবাদিকতার পেশাগত মান কি ততটাই বাড়ছে? পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই, প্রশিক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কতটা হয়েছে—এ প্রশ্ন এখন শুধু সাংবাদিক সমাজের নয়, সচেতন নাগরিকদেরও। পরিচয় নয়, যোগ্যতাই হোক সাংবাদিকতার প্রধান ভিত্তি সাংবাদিকতা কোনো সাধারণ পেশা নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অন্যায় এবং মানুষের অধিকারহরণের ঘটনা তুলে ধরে জনগণের সামনে সত্য প্রকাশ করা সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একজন সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম মানুষের অধিকার রক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার। কিন্তু সেই কলম যদি ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক সুবিধা কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। সাংবাদিক হতে শুধু একটি প্রেস কার্ড, পরিচয়পত্র কিংবা কোনো সংগঠনের পদবি যথেষ্ট নয়। একজন পেশাদার সাংবাদিকের মধ্যে থাকতে হয় তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, অনুসন্ধিৎসা, ভাষাগত সক্ষমতা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা, সাহস, নিরপেক্ষতা এবং দুই পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার মানসিকতা। অথচ বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে, সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশিক্ষণ বা পেশাগত অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেউ কেউ সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত প্রভাব, ব্যবসায়িক সুবিধা কিংবা সামাজিক ক্ষমতা অর্জনের উদ্দেশ্যেও এই পরিচয় ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এ অভিযোগ কোনোভাবেই সব সাংবাদিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দেশের অসংখ্য সাংবাদিক প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করছেন, ঝুঁকি নিচ্ছেন এবং সত্য ও জনস্বার্থের সংবাদ তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সমস্যাটি তৈরি হয় তখনই, যখন অ-পেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। সংগঠন বাড়লেও বিভাজন কেন? সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংগঠনের সংখ্যা বৃদ্ধি যদি পেশাগত উন্নয়নের পরিবর্তে পদ-পদবি, নেতৃত্ব, প্রভাব ও গ্রুপিংয়ের প্রতিযোগিতা বাড়ায়, তাহলে সেটি সাংবাদিকতার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে একই এলাকার একাধিক সংগঠন নিজেদের প্রকৃত বা প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে দাবি করে। কোথাও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোথাও নেতৃত্বের বিরোধ, আবার কোথাও পদ-পদবি নিয়ে প্রতিযোগিতা সাংবাদিকদের ঐক্যকে দুর্বল করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গে নিয়মিতভাবে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও বিভিন্ন সংগঠনের পরিচয় ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও ভেবে দেখা দরকার। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো পেশা কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি, মামলা বা হয়রানির শিকার হলে তার পাশে দাঁড়ানো সাংবাদিক সমাজের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু সংগঠনভেদে বিভাজন, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে অনেক সময় সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়াতেও বিভক্তি দেখা যায়। একজন সাংবাদিক বিপদে পড়লে অন্য সাংবাদিকরা যদি পেশাগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে না দাঁড়ান, তাহলে সাংবাদিকদের সামগ্রিক নিরাপত্তা দুর্বল হয়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা শুধু রাষ্ট্রের কাছে দাবি করলেই হবে না; সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত ঐক্য ও নৈতিকতার চর্চা করতে হবে। জুলাই-আগস্ট ২০২৪: সাংবাদিকদের জন্যও ছিল ভয়াবহ সময়।২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা, গুলিবিদ্ধ হওয়া, আহত হওয়া এবং প্রাণহানির শিকার হন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (IFJ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই আন্দোলনে পাঁচ সাংবাদিক নিহত এবং প্রায় ২৫০ সাংবাদিক আহত হন।অর্থাৎ, সাংবাদিকতার সংকট শুধু মামলা বা রাজনৈতিক চাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েও সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। মামলা হয়েছে বহু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়েছে। The Daily Star-এর ২৯ এপ্রিল ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে ৩২টি ফৌজদারি মামলায় অন্তত ১৩৭ সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছিল। এসব মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, দাঙ্গা, অপহরণ, ভাঙচুর, চাঁদাবাজি, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছিল।তবে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি—মামলায় আসামি হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য তদন্ত, প্রমাণ, বিচার এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তারও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে।দীর্ঘদিন কারাবন্দি সাংবাদিকদের ঘটনাও আলোচনায়।২০২৬ সালের ৩ মে The Daily Star জানায়, পাঁচজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তখনও বিচার শুরুর আগের পর্যায়ে ৫৯৩ থেকে ৬২০ দিন পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।প্রতিবেদনে ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু, শ্যামল দত্ত ও সাংবাদিক-চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের নাম উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে CPJ জানায়, ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদকে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অধিকাংশ মামলায় জামিন দেন; তবে অন্যান্য মামলার কারণে তারা তখনও কারাগারে ছিলেন। এই ঘটনাগুলো সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ থাকলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজ, মতামত বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে যেন কাউকে অন্যায়ভাবে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে না হয়—সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীনতা থাকবে, তবে জবাবদিহিও থাকতে হবে।সাংবাদিকতার স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্বাধীনতার অর্থ জবাবদিহির বাইরে থাকা নয়। একজন সাংবাদিক ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করলে, তথ্য বিকৃত করলে, ঘুষ গ্রহণ করলে, কারও চরিত্রহনন করলে কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে পেশাগত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। অন্যদিকে শুধু অভিযোগ উঠেছে বলেই কোনো সাংবাদিককে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। তদন্ত, প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য নির্ধারিত হতে হবে। সাংবাদিকতা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয় সাংবাদিকের প্রধান পরিচয় হওয়া উচিত—সত্যের পক্ষে থাকা। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকের অবস্থান পরিবর্তন করা নয়; বরং যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, তার কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। ক্ষমতাসীন দলের ভুল যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি বিরোধী দলের অনিয়মও সংবাদে আসতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শ যেন সংবাদ পরিবেশনের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত না করে—এটাই হওয়া উচিত পেশাগত নীতি। সাংবাদিক সংগঠন থাকবে, তবে সংগঠন যেন সাংবাদিকতার বিকল্প না হয়।প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও পেশাজীবী সংগঠন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, কল্যাণ ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।।কিন্তু সংগঠনের সদস্যপদ কিংবা নেতৃত্ব যেন সাংবাদিকতার যোগ্যতার বিকল্প না হয়ে ওঠে। একটি সংগঠনের পদবি একজন ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দক্ষ বা পেশাদার সাংবাদিক বানায় না। তাই সংগঠনগুলোর উচিত সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণ করা। সদস্যের পেশাগত কার্যক্রম, সংবাদ প্রকাশের ইতিহাস, প্রশিক্ষণ, নৈতিক আচরণ এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে বাস্তব সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এখন প্রয়োজন পেশাগত মানদণ্ড বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। প্রথমত, সাংবাদিকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তৃতীয়ত, সাংবাদিকদের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা থাকতে হবে। চতুর্থত, সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সদস্যপদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পঞ্চমত, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজকেই নৈতিক অবস্থান নিতে হবে।নিজেদের ঘরও পরিষ্কার করতে হবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সাংবাদিক সমাজেরও। সরকারকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত চাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের নিরাপত্তা দিতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যেও আত্মসমালোচনার সাহস থাকতে হবে।সাংবাদিকতার পরিচয় যদি ব্যক্তিগত ব্যবসা, অবৈধ সুবিধা আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা সামাজিক ক্ষমতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংবাদিক সমাজেরই দায়িত্ব।কারণ একজন অদক্ষ বা অসৎ ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব শুধু তার ওপর পড়ে না; এর ছায়া পড়ে পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর।শেষ কথা: সংগঠন নয়, মান বাড়ুক আজ তাই প্রশ্নটি আরও জোরালোভাবে সামনে আসে—আমরা কি শুধু সাংবাদিক সংগঠনের সংখ্যা বাড়াব, নাকি সাংবাদিকতার মানও বাড়াব?প্রেসক্লাবের সংখ্যা বাড়লেই সাংবাদিকতা শক্তিশালী হয় না। সংগঠনের নেতা বাড়লেই সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা বাড়ে না।সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি আসে সত্যনিষ্ঠা, যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, সাহস, নৈতিকতা, অনুসন্ধানী মনোভাব এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। সাংবাদিক সমাজকে তাই ‘কে কত বড় নেতা’—এই প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে ‘কে কতটা সৎ, যোগ্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিক’—এই প্রতিযোগিতায় যেতে হবে। সাংবাদিকতা সমাজের আয়না। সেই আয়না যদি স্বচ্ছ থাকে, সমাজ তার প্রকৃত চেহারা দেখতে পায়। আর আয়নাই যদি কলুষিত হয়, তাহলে সত্যের প্রতিফলনও অস্পষ্ট হয়ে যায়। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি সাংবাদিকতার নামে অপেশাদারিত্ব, অনৈতিকতা, স্বার্থের রাজনীতি ও পরিচয়ের অপব্যবহারের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে শক্তিশালী গণমাধ্যম, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং কার্যকর গণতন্ত্র। লেখক ও গবেষক: আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি, ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button