অনুসন্ধান

চাঁদপুরে পাউবোর কাজে নিম্নমানের সামগ্রী, কাজ বন্ধের নির্দেশ।

চাঁদপুর প্রতিনিধি :
চাঁদপুরে জেলার মতলব উত্তর উপজেলা মেঘনা-ধনাগোদা তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শহিদ ব্রাদার্স কে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে চিঠি প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ঠিকাদারের প্রতিনিধি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা কর্তৃক পাউবো সাইটের গেইট অপারেটর(আউটসোসিং) মোঃ ইয়াসিন গাজী লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ভাঙনরোধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলাকালে বেশ কিছুদিন ধরেই নিম্নমানের বালু, পাথর ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিলেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে কাজ করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া ইতিপূর্বে পাউবোর ৮ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে যেই মহলটি প্রোপাগান্ডা প্রচারণা ছড়িয়েছে তারাই এই কাজের ঠিকাদার। তারা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের অনুগ্রহে অফিসের এক কর্মকর্তাকে বদলি করেছে বলে দাম্ভিকতা প্রকাশ করছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কাজের অনিয়মে বাধা দিলে অন্যান্যদের কে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।কাজের অনিয়মের খবরর পেয়ে মাননীয় স্থানীয় সংসদ ডঃ জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। সেই সাথে লাঞ্ছিত পাউবোর গেইট অপারেটরের সাথে কথা বলেন এবং মোঃ ইয়াসিন গাজী সংসদ সদস্য কাছে বিস্তারিত অবগত করেন।স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দীন কড়া হুশিয়ার করে বলেন কাজে কোন ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।এ অবস্থায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করতে গেলে ঘটনাস্থলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কিছু ব্যক্তি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সেখানে কর্মরত অপারেটরের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং তাদের লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এ বাঁধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। তারা দ্রুত মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার নিশ্চিত করে কাজ পুনরায় শুরু করার দাবি জানান। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি তৎকালীন আওয়ামী লীগের দোষর। তিনি সাবেক জেলা যুবলীগের এক নম্বর মেম্বার ও মেসার্স শহীদ ব্রাদার্সের প্রতিনিধি জাফরিল চৌধুরী। তাছাড়া তিনি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এর আপন ভাই।স্থানীয় বিএনপি নেতা নাজমুল হোসেন গাজী কর্তৃক ইয়াসিন গাজীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়েছে। লাঞ্ছিত ইয়াসিন গাজী জানান নাজমুল হোসেন আমাকে কাজের সাইটে পেয়ে আমাকে বলে আমি না কি সকল তথ্য অফিসে জানিয়ে দেই বলে গায়ে হাত তুলে এবং আমাকে অপমান ও লাঞ্ছিত করেন। আমি আমার দপ্তর ও স্থানীয় সংসদ কে বিষয়টি অবগত করি। আমি তার সুষ্ঠু বিচার চাই।সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না। ইতোমধ্যে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদী তীররক্ষা বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্থানীয় লোকজন জানান এমহলটি এতটাই প্রভাবশালী যে কোন দরপত্রে দূরের কোন ঠিকাদার কাজ পেলে ওই ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তারা জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের নাম বিক্রি করে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ভয় ভীতি প্রদর্শন করে কাজ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button