

ডেক্স রিপোর্টঃ
ইলিশের পোনা (জাটকা) সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ছয়টি নদী অঞ্চলে আগামী দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয় এই বিস্তৃত এলাকা ছাড়াও চাঁদপুর, বরিশাল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, খুলনা, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন নদ নদী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং মার্চ-এপ্রিল মাসজুড়ে তা বলবৎ থাকবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর জাটকা সংরক্ষণে এ সময়টিতে নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী অঞ্চলে জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞাকালে মতলব উত্তর উপজেলার প্রায় ৯ হাজার ১০০ নিবন্ধিত জেলেকে সরকার চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল প্রদান করবে। এ সময় জেলেরা নৌকা ও জাল মেরামতসহ বিকল্প কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকার প্রস্তুতি নেবেন। আইন অমান্য করে কেউ নদীতে মাছ ধরতে গেলে মৎস্য আইনে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযান পরিচালনায় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে মাঠে থাকবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট–এর ইলিশ গবেষক ড. মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনিক নজরদারি নয়, জেলেদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। জাটকা সংরক্ষণে ধারাবাহিক সচেতনতা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ বাড়ানো গেলে এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে। মতলব উত্তর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, নির্ধারিত ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং মা-ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। কোনো অসাধু জেলে যাতে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করতে না পারে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, ইতোমধ্যে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। তারপরও কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ অভিযান সফল করতে হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই মাসের এই অভয়াশ্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নদীতে জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত হবে এবং আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতি ও জেলেদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।










