

নিজস্ব প্রতিবেদক সানজিদা আক্তার সৃতিঃ
আজ সেই পবিত্র ও অনন্য রাত, যা মুসলিম উম্মাহর কাছে ‘লাইলাতুল মেরাজ’ বা শবে মেরাজ হিসেবে পরিচিত। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই মহিমান্বিত রজনীতেই ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর হুকুমে ঊর্ধ্বলোক গমনের এক অলৌকিক সফরে বের হয়েছিলেন। সৃষ্টির ইতিহাসে এটিই একমাত্র সফর, যেখানে একজন মানুষ আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছে সরাসরি স্রষ্টার দিদার লাভ করেছিলেন।মেরাজের এই অলৌকিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনের সূরা বনি ইসরায়েলের প্রথম আয়াতে ইরশাদ করেছেন:পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে সফর করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, যাতে আমি তাঁকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি।একইভাবে সূরা নজমে আল্লাহ তাআলা সিদরাতুল মুনতাহা ও আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন,তখনতাঁর দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়নি এবং তিনি লক্ষ্যচ্যুতও হননি। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর পালনকর্তার বড় বড় নিদর্শনাবলী দেখেছেন। ইতিহাসের সেই রোমাঞ্চকর রাতে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বোরাকে চড়ে বায়তুল মোকাদ্দাস যান এবং সেখান থেকে সাত আসমান পাড়ি দিয়ে পৌঁছান আরশে আজিমে। পথিমধ্যে তিনি আম্বিয়ায়ে কেরামদের ইমামতি করেন এবং সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছান যেখানে স্বয়ং জিব্রাইল (আ.)-এর প্রবেশের অনুমতি ছিল না। সেখানে কোনো মাধ্যম ছাড়াই তিনি মহান আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন ও দিদার লাভ করেন।এই মহিমান্বিত সফর কেবল নবীজি (সা.)-এর একার সম্মান ছিল না, বরং এটি ছিল পুরো উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য রহমত। এই রাতেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবের মাধ্যমে উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দান করেন। ইসলামের পরিভাষায় ‘নামাজ মুমিনের মেরাজ’ হিসেবে গণ্য হয়, যার মাধ্যমে একজন বান্দা প্রতিদিন সরাসরি তার রবের সাথে কথোপকথনের সুযোগ পায়।বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ নফল ইবাদত, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করবেন। মসজিদের খতিবগণ মেরাজের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করবেন। এই রজনীর শিক্ষা হলো—আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক মুক্তি অর্জন করা।










