

মোঃ মিঠু মিয়া গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আলু সংরক্ষণের বুকিং স্লিপ না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থানীয় কৃষকরা হিমাদ্রি ক্লোড স্টোরেজের সামনে জড়ো হয়ে বুকিং স্লিপের দাবি জানান। তবে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানান, হিমাগারের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বুকিং কার্ড ইতোমধ্যেই বিক্রি হয়ে গেছে।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বুকিং কার্ড বিক্রি শুরু হলেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সব কার্ড বিক্রি হয়ে গেছে, যা অস্বাভাবিক। তারা দাবি করেন, প্রকৃত কৃষকদের বদলে ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বুকিং কার্ড বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন না।
কৃষকদের আশঙ্কা, যদি ব্যবসায়ীরা পুরো বুকিং কার্ড সংগ্রহ করে নেয়, তাহলে তারা সিন্ডিকেট তৈরি করে উচ্চমূল্যে আলু বিক্রি করবে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের মধ্যেই বুকিং কার্ড বিতরণ করতে হবে, যাতে তারা সরাসরি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের সুযোগ পান এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যে আলু সরবরাহ নিশ্চিত হয়।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কৃষকরা হিমাদ্রি ক্লোড স্টোরেজ লিমিটেডের সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ চলতে থাকে, যার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম ও ওসি (তদন্ত) ইকবাল পাশা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই আশ্বাসের পর কৃষকরা অবরোধ তুলে নেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর কৃষকেরা আবারও বুকিং স্লিপ এর দাবিতে বিশ্বরোড অবরোধ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নির্দেশ দেন। এতে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হিমাদ্রি লিমিটেড এর ম্যানেজার মোজাম্মেল হকের সঙ্গে কথা বললে, মোজাম্মেল হক এবং পুলিশের পক্ষ থেকে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত আকারে শুধু কৃষকের আলুর বীজ সংরক্ষণের জন্য বুকিং স্লিপ দেওয়ার আশ্বাসে উপস্থিত প্রতিবাদী কৃষক গন অবরোধ তুলে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গোবিন্দগঞ্জ কোল্ডস্টোরেজ
-১, ও ২ , এবং হিমাদ্রি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য বুকিং স্লিপ নিয়ে লুকোচুরি করছে বলে কৃষকরা অভিযোগ তুলেছেন। তানিয়া আলু চাষী ও কৃষকদের দাবি, আলু সংরক্ষণের জন্য বুকিং স্লিপ কালোবাজারে বিক্রি করে কৃষক হারায়নির অভিযোগ তুলেছেন তারা।স্থানীয় কৃষকদের মতে, হিমাগারে বুকিং কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।










