গাইবান্ধা

গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলালের ভাই ৬৫ বোতল এসকাফসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-১৩) পৃথক ও বিশেষ অভিযানে ২১৩ বোতল ফেন্সিডিলজাতীয় মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ এবং একটি মোটরসাইকেলসহ দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হাসান আলালের সহোদর ভাই, মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি মোঃ আমিনুল ইসলাম আতাউর রয়েছেন। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৩ এর মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে সিপিসি-৩ র‍্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ১০০ সিসির একটি হিরো মোটরসাইকেলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে মোটরসাইকেলটি থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে ২১৩ বোতল ফেন্সিডিলসমজাতীয় এসকাফ উদ্ধার করা হয় এবং দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেলও জব্দ করে র‍্যাব। গ্রেফতারকৃত দুই মাদক কারবারি হলেন:মোঃ আমিনুল ইসলাম আতাউর (৩৮): গাইবান্ধা পৌর এলাকার ফকিরপাড়া গ্রামের মোঃ জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গাইবান্ধা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হাসান আলালের সহোদর ভাই।অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি মাদক মামলার একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। শ্রী শিপলু চন্দ্র মোহন্ত (৩৩): গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাট এলাকার (ছোট দুর্গাপুর) গ্রামের মৃত বিন্দাবন চন্দ্র মোহন্তের ছেলে। র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আতাউর একা নন, তার পুরো পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে লাভজনক এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অতীতেও আতাউরের স্ত্রী এবং ছোট ভাই আরিফসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দলীয় ও রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সীমান্ত ও উৎস থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে গাইবান্ধা ও রংপুর বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের’জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের এ ধরনের অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-১৩ কর্তৃপক্ষ।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button