

আব্দুল আজিজ নওগাঁঃ
নওগাঁর ধামইরহাটে মাত্র ২০০ টাকার একটি কারেন্ট জাল বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে মোস্তাকিন নামে ২০ বছর বয়সী এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, মামলা রুজুর মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে বুধবার ভোরে ধামইরহাট থানা এলাকার সাহাপুর আঙ্গুরাত কলোনিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. রতন হোসেন, মো. সাইদুল ইসলাম, শিশু মো. হাসান, রোকেয়া বেগম ও মোছাম্মত জাকিয়া বেগম। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর এলাকার রতনের কাছ থেকে মাত্র ২০০ টাকায় একটি কারেন্ট জাল বন্ধক নিয়েছিলেন মোস্তাকিন। এই জাল বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে সেই বাকবিতণ্ডা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোস্তাকিন গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা আহত মোস্তাকিনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মোস্তাকিনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাত্র ২০০ টাকার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে একজন তরুণের প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান শুরু করে থানা পুলিশের একটি দল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ভোরে সাহাপুর আঙ্গুরাত কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—ওসি মো. মিন্টু রহমান জানান, সামান্য ২০০ টাকার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এবং মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের দ্রুত অভিযানে পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যেক আসামির ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামান্য অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া জরুরি। এদিকে, নিহত মোস্তাকিনের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, তদন্তে যার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।










