চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের পাহাড়কান্নায় ভারী বর্ষণ আর মানুষের লোভের থাবা: ৫৪ প্রাণহানির খলনায়ক কে?।

মোঃ সোহেলঃ
অপরাধ বিশ্লেষক বর্ষা এলেই বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর পাহাড়ি জনপদে নেমে আসে এক দীর্ঘশ্বাস। মাইকিং, প্রশাসনের লাল পতাকা আর আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তার চিরাচরিত সুর ছাপিয়ে এবারও প্রকৃতির নির্মম কোপানল কেড়ে নিয়েছে বহু তাজা প্রাণ। সাংবাদিক ও কলামিস্ট মোঃ সোহেলের অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল আর সর্বগ্রাসী পাহাড়ধসে বাংলাদেশের সাতটি জেলায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হয়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৫৪ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং এর সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চল। নিচু তল্লাটের আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবনে ডেকে এনেছে চরম দুর্ভোগ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে একদিনে ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আবহাওয়ার এমন বৈরিতা যেন বহু বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।প্রশ্ন আজ একটাই—এই মৃত্যুর দায় কার? প্রকৃতির রোষানল, নাকি মানুষের নির্বিচার পাহাড়খেকো রূপ মেঘের কান্না নাকি মানবসৃষ্ট অভিশাপ? ​চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো আজ কেবল প্রকৃতির দান নয়, বরং লোভী মানুষের জবরদখল ও কাটাছেঁড়ার এক ক্ষতবিক্ষত স্মারক। সাংবাদিক মোঃ সোহেলের কলাম ও বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, পাহাড়ধসের জন্য শুধু অতিবৃষ্টিই দায়ী নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক নানা কারণ। অবাধে পাহাড় কাটা, গাছপালার চাদর কেড়ে নেওয়া এবং অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ মাটির বাঁধন আজ পুরোপুরি দুর্বল।সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে মাটি আঁকড়ে থাকার কথা, সেখানে প্রকৃতির সামান্য তাণ্ডবেই তা রূপ নিচ্ছে মরণফাঁদে। ​অতীতের ছায়া ও বর্তমানের হাহাকার
​অতীতেও এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড়ধসগুলো কেড়ে নিয়েছে শত শত প্রাণ। বর্তমান পরিস্থিতিতেও অতীতের মতো বড় ধরনের পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রবলভাবে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই বিপর্যয় নেমে আসার পর প্রশাসনের টনক নড়ে ক্ষণিকের জন্য, তৈরি হয় নতুন কমিটি—যা সময়ের বিবর্তনে ফাইলচাপা পড়ে যায়।এবারের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় যেভাবে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে, তা কেবল দুর্যোগ নয়; বরং আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতার এক করুণ দলিল।
​সময় এখনই: ঘুম ভাঙার পালা এই অকালমৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে কেবল মাইকিং বা দায়সারা ত্রাণ বিতরণে কাজ হবে না। পাহাড় কাটার নেপথ্যে থাকা অসাধু চক্র ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ। পাহাড়ের প্রাকৃতিক রূপ ফিরিয়ে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোকে স্থায়ী ও নিরাপদ আশ্রয়ে পুনর্বাসন করার মাধ্যমেই কেবল রক্ষা পেতে পারে আগামী প্রজন্ম।অন্যথায়, প্রতি বর্ষা এভাবেই আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়বে লাশের মিছিল নিয়ে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button