

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হলেও বাস্তবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা নিশ্চিত—সে প্রশ্ন আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংবিধান ও আইনে মতপ্রকাশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকলেও মাঠপর্যায়ে অনেক সাংবাদিককে সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের কারণে নানা ধরনের চাপ, মামলা, হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম জবাবদিহি, সুশাসন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অনিয়ম তুলে ধরা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান নয়। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও নৈতিকতা, পেশাগত মানদণ্ড এবং তথ্য যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মিথ্যা তথ্য, অপপ্রচার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ কখনোই স্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। একইভাবে তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানি বা ভয়ভীতির মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এদিকে সাংবাদিকতার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের পদধারী এবং সাংবাদিক হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হতে পারে।তাই সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় পেশাগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি ভুয়া খবর ও অপতথ্যের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার মধ্যেও একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের কল্যাণে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেখানে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য অনুসন্ধান করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে পেশাগত নৈতিকতার প্রতিও দায়বদ্ধ থাকবেন।কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের দাবি নয়; এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, সমালোচনাকে শত্রুতা নয় বরং উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র। লেখক: মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) কেন্দ্রীয় কমিটি।










