
আলমগীর হোসেন আসিফ হাইমচরঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মিয়াজী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণভাবে “ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৪ মে) দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে উপজেলার ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মিলনায়তনে পৃথকভাবে এই সংবর্ধনা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও মরহুম আব্দুর রহমান মিয়াজীর সুযোগ্য সন্তান মু. ইব্রাহিম খলিল শামীম।প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলা পরিসংখ্যান বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর। এই প্রতিযোগিতামূলক যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থীদেরকে প্রযুক্তি জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।সেমিনারে ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশেষ অতিথিবৃন্দ—ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ফয়সাল, হাইমচর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মওদুদ হাসান ও মোঃ নাসির উদ্দিন, ডাঃ নাজমা আক্তার, মোঃ নাজমুল হোসেন, আইনুল হাসান এবং রাকিব শাহরিয়ার। তারা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ, সময় ব্যবস্থাপনা, উচ্চশিক্ষা পরিকল্পনা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ দেন।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান। হাইমচরের আলগীবাজার আলিম (সিনিয়র) মাদ্রাসা, দুর্গাপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাজাপ্তী রমণী মোহন উচ্চ বিদ্যালয়, কমলাপুর দাখিল মাদ্রাসা, জামিলায়ে মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এবং কে.ভি.এন উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা স্মারক ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।এ সময় উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ ও অতিথিরা বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদেরকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী।এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়।অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস।শেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা এবং আয়োজকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের শিক্ষা সহায়ক ও মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে।










