

আব্দুল আজিজ, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছীর প্রাচীন ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘ম্যারের হাট’ মেলা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার বছরের পুরোনো এই গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে আজ মেলা প্রাঙ্গণে নেমেছিল উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ঢল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক মহা অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায়। মেলা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে, রিকশা, ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে চেপে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার নারী ও পুরুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে ওঠে এবং দুপুর গড়াতেই মেলা চত্বরে যেন জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় লোকজ শিল্পের নানা বাহারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। শিশুদের খেলনা, কসমেটিকস, হরেক রকমের মিষ্টি-মন্ডা, ঐতিহ্যবাহী জিলাপি, পাঁপড় ভাজা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় বাঁশ, বেত ও মৃৎশিল্পের জিনিসপত্র বিক্রি হয় ধুমধামে। কাঠের আসবাবপত্র ও দেশীয় নানা হাতের কাজের সামগ্রীও নজর কাড়ে ক্রেতাদের। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, ম্যারের হাট মেলা শুধু একটি কেনাবেচার স্থান নয়, এটি এলাকার আবেগ ও আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রায় হাজার বছর ধরে বংশপরম্পরায় উদযাপিত হয়ে আসা এই মেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একত্রিত হন। গ্রাম বাংলার এই সম্প্রীতি ও বন্ধনই মেলার মূল আকর্ষণ। মেলায় আসা একাধিক দর্শনার্থী জানান, “বছরের এই দিনটির জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। মেলায় দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনদের সমাগম ঘটে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই মিলে মেলা উপভোগ করার আনন্দই আলাদা। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থীদের সমাগম ও বিক্রি দুটোই বেশ সন্তোষজনক। লোকসমাগম বেশি থাকায় নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সব মিলিয়ে সার্বিক শৃঙ্খলা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই ম্যারের হাট মেলা।










