অভিযোগ

হাইমচরে ১৪ বছরেও জমির দলিল না পাওয়ার অভিযোগ, প্রতিকার চান ভুক্তভোগীরা।

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় জমি কেনার প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দলিল ও রেজিস্ট্রি বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মান্নান আখন, নানু আখন ও শাহাদাত আখনের বিরুদ্ধে। উপজেলার ২ নং উত্তর আলগী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকার গাজীবাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা মো. বাবলু শেখ ও মো. হারুন ঢালী। দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল না পাওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।জমি কেনার ১৪–১৫ বছরেও মেলেনি দলিল।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন।জমি কেনার সময় দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে জমি কেনার পরও তাঁরা এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় দলিল ও রেজিস্ট্রি বুঝে পাননি বলে দাবি করছেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি ওই জমি অন্যের কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এতে নিজেদের ক্রয়কৃত জমির মালিকানা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জমি কিনেছিলেন তাঁরা। ভুক্তভোগীরা জানান, নদীভাঙনের কারণে তাঁরা সর্বস্ব হারিয়ে আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক কষ্টে অর্থ সংগ্রহ করে জমিটি কেনেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও দলিল বুঝে না পাওয়ায় তাঁরা জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করা হলে ভবিষ্যতে তাঁরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জমি কেনার সময় দলিল করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও সেই কাজ সম্পন্ন হয়নি। এখন জমিটি অন্যের কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে জানতে পেরে তাঁরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর।স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিভিন্ন সময় বিরোধ ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জমির দলিলপত্র, ভূমি রেকর্ড এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীরা বলেন, “নদীভাঙনের পর অনেক কষ্টে আমরা এই জমি কিনেছি। শুরু থেকেই দলিল করে দেওয়ার কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত তা বুঝে পাইনি। এখন আবার জমিটি অন্যের কাছে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে জানতে পেরেছি। আমরা চাই, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আমাদের ক্রয়কৃত জমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক।প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা। জমিসংক্রান্ত এ সমস্যার দ্রুত ও ন্যায়সংগত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিকের সুদৃষ্টি কামনা করে ভুক্তভোগীরা তাঁদের জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানান। তবে জমি বিক্রির বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বক্তব্যে কিছু তথ্য উঠে এসেছে।অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত বক্তব্য, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।আইনগত প্রতিকার ও সুষ্ঠু সমাধানের প্রত্যাশা।আইনগতভাবে জমির মালিকানা ও বিক্রয়সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জমি ক্রয়ের প্রমাণ, বায়নাপত্র বা বিক্রয়চুক্তি, অর্থ পরিশোধের রসিদ, দখলসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।প্রয়োজন অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় এবং আইনজীবীর পরামর্শ নিতে পারেন।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জমির প্রকৃত মালিকানা, ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য এবং দলিল সম্পাদন না হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি কোনো পক্ষ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিনের এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তাঁদের ক্রয়কৃত জমির অধিকার নিশ্চিত করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগে তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।প্রতিবেদকের মন্তব্য: জমির দলিল সম্পাদন না হওয়ার অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, ভূমি রেকর্ড, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button