

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৬ নং চরভৈরবী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ঘরের মেঝের মাটি কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলী মাল-এর ছেলে রনির বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ বাচ্চু বেপারীর বাড়িতে ফ্লোরের মাটি কেটে ঘরে প্রবেশ করে চোরেরা নগদ ১৪ হাজার ৭০০ টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।এ ঘটনায় রনির বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি নিয়ে রনি ঢাকায় চলে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি দোকানে মোবাইলটি প্রায় ১০ হাজার টাকা দামে বিক্রির জন্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে অগ্রিম হিসেবে ২ হাজার টাকা নেওয়ার পর বাকি টাকা পরদিন নেওয়ার কথা বলে ওই স্থান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।পরবর্তীতে মোবাইল ফোনটি চালু করা হলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফোনে যোগাযোগ করেন।একপর্যায়ে ফোনটি যিনি কিনেছিলেন তার সঙ্গে কথা বলার সূত্র ধরে মোবাইলটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় মোবাইল বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রনির বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, কিছুদিন আগে আবুল হোসেন প্রধানিয়ার বাড়িতে সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনায় স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ লুটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে পূর্বের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। এদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক চলাচলের বিষয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় জনগণ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত পদ্ধতিতে নজরদারি এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি উঠেছে। তবে রনির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।










