অভিযোগ

টেকনাফে সাবের ডাকাত বাহিনীর হামলা: নবম শ্রেণির ছাত্রী আহত, লুটপাটে আতঙ্ক।

কামরুল ইসলাম টেকনাফ:
কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উপজেলা টেকনাফে আবারও সশস্ত্র ডাকাত বাহিনীর ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কুতুবদিয়াপাড়া এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাবের আহমদের নেতৃত্বাধীন ডাকাত দলের হামলায় এক নবম শ্রেণির স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।রাতের আঁধারে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। শনিবার (২ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিনের বসতঘরে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল টিনের চাল ও বেড়া কেটে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা ঘরে ব্যাপক লুটপাট চালায়।ডাকাতরা নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ আনা স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। এসময় ঘরে থাকা কানজর পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসমত আরা ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পিস্তলের বাট দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়।গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পুরো পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।ভুক্তভোগী বেলাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাবের আহমদ ও তার বাহিনী এলাকায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং মানবপাচারের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। তিনি বলেন, আমার মেয়ের ওপর এমন নির্মম হামলা শুধু আমাদের পরিবার নয়, পুরো এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করেছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার পর বেলাল উদ্দিন টেকনাফ মডেল থানায় সাবের আহমদসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। ডাকাতি, অপহরণ, মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে সাবের ডাকাত বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সীমান্ত জনপদ টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আর কতদিন এমন সন্ত্রাস, ডাকাতি ও সহিংসতার মধ্যে বসবাস করতে হবে? এখন সময় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button