

আমিনুল ইসলাম মিঠু গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাফার সার গোডাউনকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবি, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৈধভাবে সার লোড-আনলোড কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত মোঃ নুর মোহাম্মদ প্রিন্স (৪৭) গত ২২ এপ্রিল সকাল প্রায় ১১টার দিকে শ্রমিকদের নিয়ে তুলসীঘাট বাফার সার গোডাউনে কাজ শুরু করতে গেলে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজে বাধা দেয়। অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ও বিকাশ চন্দ্র সাহাসহ আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা চালানো হয়।হামলায় গুরুতর আহত হন এজাজ আহমেদ ডিউক। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের কারণে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া হাফিজ আসাদ লিখন, আরিফসহ আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কয়েকজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হামলার সময় দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে, ফলে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আকস্মিক এ হামলায় গোডাউন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্রমিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।স্থানীয় জনগণ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা হুমকি দিতে দিতে এলাকা ত্যাগ করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ভুক্তভোগী নুর মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, গোডাউন এলাকায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে হামলাকারীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল আল মামুন জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সার গোডাউনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।গোটা ঘটনায় তুলসীঘাট এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










