

একরাম হোসেন রায়পুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের হায়দরগঞ্জে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হায়দরগঞ্জ বাংলা বাজারস্থ ভায়োলিন চাইনিজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে স্থানীয় কেমিস্ট-ড্রাগিস্ট ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সমাজসেবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আন্তরিক পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মাহে রমজানের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। হায়দরগঞ্জ উপশাখা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ লিটন হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিটন মাঝির সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম রোমান।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শিবলু চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হায়দরগঞ্জ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তফা তালুকদার, কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসির মালিক ও ব্যবসায়ীরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন সমিতির সদস্য মোঃ শাহিন হোসেন। কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর মাহে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিবৃন্দ। বক্তারা বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। এই মাস সংযম, ধৈর্য, আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে পরিচিত। রোজার মাধ্যমে একজন মুসলমান ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করে ধৈর্য ধারণ করতে শেখে এবং নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার শিক্ষা লাভ করে। বক্তারা আরও বলেন, রমজান মাস মানুষকে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দানশীলতার শিক্ষা দেয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করার জন্য রোজা একটি বড় শিক্ষা। সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম ব্যক্তিদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি দান-সদকা করা এবং গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বক্তারা উল্লেখ করেন, ইসলামে রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এসেছে—যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে, অথচ রোজাদারের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। এই মহান শিক্ষার আলোকে সমাজে ইফতার মাহফিলের প্রচলন হয়েছে, যা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও জোরদার করে। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট ব্যবসায়ীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। মানুষের অসুস্থতার সময় দ্রুত ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাই এই পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় বক্তারা ভবিষ্যতে হায়দরগঞ্জ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মোঃ শাহিন হোসেন। দোয়া ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার পরিবেশন করা হয়।ইফতার মাহফিলে হায়দরগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসির মালিক, কেমিস্ট-ড্রাগিস্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা উপস্থিত সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করেছে।










