

চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরে বিকাশের এজেন্টদের কাছে বিতরণের কথা থাকা ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ভুয়া অপহরণ নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে গেলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় সত্য উদঘাটিত হয়। পরে অভিযুক্তের বাড়ির মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় পুরো ৯ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফয়েজ আহমেদ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বিকাশ লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানের ডিএসও (এসআর) মো. রাব্বি (২২) ও তার সহযোগী ফরহাদ হোসেন (২১)।পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেসার্স দিবা এন্টারপ্রাইজ নামে বিকাশের একটি ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন মো. রাব্বি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে চাঁদপুর পৌরসভার ওয়ান মিনিট সংলগ্ন ঢাকা ব্যাংক শাখা থেকে অফিসের সুপারভাইজারের মাধ্যমে ৯ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই অর্থ সদর উপজেলার বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টদের কাছে বিতরণের কথা ছিল তার।কিন্তু ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই রাব্বি নিখোঁজ হন। পরে তিনি অফিসে ফোন করে দাবি করেন, তাকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাই করে পুলিশ রাব্বিকে সনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপহরণের গল্পটি সাজানো বলে স্বীকার করেন। রাব্বির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই কালাম গাজী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালান। পরে বসতঘরের মাটি খুঁড়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় সম্পূর্ণ ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে ফরহাদ হোসেনকেও আটক করা হয়।পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে—পরিকল্পিতভাবেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এমন প্রতারণার চেষ্টা করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোঃ ফয়েজ আহমেদ বলেন, অভিযুক্তরা বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরের টাকার দায়িত্বে থেকে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেছে। উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনায় জনমনে আস্থা সংকট তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করায় পুলিশের এই তৎপরতা স্থানীয় মহলে প্রশংসিত হয়েছে।










