পটুয়াখালী

পবিপ্রবিতে আধুনিক বাসের উদ্বোধন স্বপ্নযাত্রায় এক নতুন মাইলফলক।

মোঃ আরিফুর রহমান মামুন পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
জ্ঞানযাত্রার পথ কখনো মসৃণ নয়, তেমনি একঘেয়েও নয়। এই যাত্রা রৌদ্রজ্বল দুপুরের মতো দীপ্ত, আবার মেঘলা দিনের মতো ক্লান্তিকরও। কখনো তা আশার আলোয় উদ্ভাসিত, আবার কখনো কাঁটাঝোপে ছেঁচড়ে চলতে হয়। এই পথেই হাঁটে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই প্রতিদিনের পথচলাকে আরও আরামদায়ক, নিরাপদ ও মানবিক করতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) যুক্ত করলো এক নতুন প্রাপ্তি—৫০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, আরামদায়ক শিক্ষার্থী পরিবহন বাস।১৫ মে, বুধবার, সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এক অনাড়ম্বর কিন্তু হৃদয়গ্রাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে পবিপ্রবির মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। তিনি বলেন, এই বাসটি শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের যাত্রায় কেবল একটি বাহন নয়—এটি সময় সচেতনতা, নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি কর্পোরেট দায়িত্ববোধের এক অনন্য নজির। শিক্ষার্থীদের জন্য এই বাসটি উপহার দিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক। আইএফআইসি ব্যাংক এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল মুনাফা নয়—আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া। এই বাস তারই একটি ক্ষুদ্র প্রতিফলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময়ই আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এই নতুন বাস তাদের যাতায়াতের ক্লান্তি কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মনসুর মুস্তাফা বলেন, আমরা মনে করি—মানবিক উদ্যোগই একটি প্রতিষ্ঠানের আসল পরিচয়। এই বাস দিয়ে হয়তো বড় কিছু বদলে যাবে না, কিন্তু এটি শিক্ষার্থীদের জীবনে প্রতিদিনের একটুখানি স্বস্তি, একটুখানি উৎসাহ যোগাবে—এই চেতনায় আমরা এই প্রয়াস নিয়েছি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবসময়ই আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। এই নতুন বাস তাদের যাতায়াতের ক্লান্তি কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইএফআইসি ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মেহমুদ হুসাইন। তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীরাই একদিন জাতির নেতৃত্ব দেবে। তাদের স্বপ্নপূরণে একটুখানি অবদান রাখাই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। পবিপ্রবির মতো একটি প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়াতে পারা আমাদের জন্য সম্মানের। এই বাস শুধু একটি বাহন নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসা, ছাত্রদের প্রতি আমাদের আস্থা এবং জাতির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতীক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম তাঁর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এই বাসটি ধাতব কাঠামোর বাইরে গিয়ে হয়ে উঠেছে স্বপ্নপূরণের সহযাত্রী। শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচানো, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরো সহজ করে তোলার ক্ষেত্রে এই উপহার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার প্রতি পবিপ্রবি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, জীবনটাই এক নিরবিচার সংগ্রাম। আর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সেই স্থান, যেখানে এই সংগ্রামে জয়ী হওয়ার প্রস্তুতি চলে। শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গঠনে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি থাকবে না। এই বাস সেই চেষ্টারই এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।”বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপ-উপদেষ্টা ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, ইএসডিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহসীন হোসেন খান, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্ট্যাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এফবিএ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সহকারী রেজিস্ট্রার সুইন আহমেদ, মাহমুদ আল জামান, লোকমান হোসেন মিঠুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী রাতুল, সোহেল রানা জনি এবং মারসিফুল আলম রিমন বলেন, এই বাস শুধু একটি বাহন নয়, এটি আমাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের ক্লান্তিকর যাত্রা এখন আর ক্লান্তিকর মনে হবে না। আমরা কৃতজ্ঞ, কারণ কেউ আমাদের কথা ভাবছে।এই বাসের মধ্যে লুকিয়ে আছে যত্ন, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার গভীর ছায়া। পটুয়াখালীর মতো একটি প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মানবিক দিককে জোরদার করবে। শিক্ষা ও অর্থনীতির এই সম্মিলিত প্রয়াস একটি আলোকিত বাংলাদেশের স্বপ্নকেই শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে।পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এখন এই নতুন সহযাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে তাদের স্বপ্নের গন্তব্যে—বাসের জানালা দিয়ে ভবিষ্যতের আকাশে চোখ রেখে, এক নতুন ভোরের প্রতীক্ষায়।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button