প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষায় ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব, ৯০ দিনে মামলা নিষ্পত্তির দাবি।


মোঃ সেলিম রানা সৌদি প্রতিনিধি:
প্রবাসীদের জমি, বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অর্থ-সম্পদ ও অন্যান্য অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব উঠেছে। অভিযোগ গ্রহণ থেকে শুনানি ও রায়—পুরো বিচারপ্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ প্রস্তাব দিয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করে সংগঠনটির প্রতিনিধিদল। প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দাবি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দেশে তাদের জমি, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নানা ধরনের বিরোধ ও আইনি জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মামলা চলার কারণে বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হতে পারেন না। এতে তারা আর্থিক ক্ষতি, হয়রানি ও মানসিক চাপের মুখে পড়েন। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষায়িত ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছে এইচআরপিবি। সংগঠনটির মতে, দ্রুত আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করা গেলে প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগ ও সম্পদ ধরে রাখার আগ্রহ আরও বাড়বে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের সমর্থন প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম।সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সেলিম রানা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও সম্পদ যেন অন্যায়ভাবে কেউ দখল করতে না পারে এবং ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পান, সে জন্য বিশেষ প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল দ্রুত গঠন করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের অধিকার ও সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানাচ্ছি। সংগঠনের পরিচালক রিমন হোসেন বলেন, প্রবাসীরা বর্তমানে দেশ ও প্রবাস—দুই জায়গাতেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগের সুযোগ এইচআরপিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রবাসী দেশে অবস্থান না করেও সরাসরি অথবা ডিজিটাল মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় অভিযোগ করার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে ১০০ টাকা অথবা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কোর্ট ফি হিসেবে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অভিযোগ গ্রহণের পর ৩০ দিনের মধ্যে শুনানির তারিখ নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শুনানি শেষ করে রায় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রয়োজন হলে বিচারক সরাসরি আদালতে অথবা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি নিতে পারবেন। আপিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাব প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হলে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ থাকবে। তবে কোনো প্রবাসীর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল থেকে উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলে, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের পর আপিলের সুযোগ রাখার কথাও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার পর প্রবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত কোনো মামলা অন্য আদালতে চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা প্রবাসী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের আবেদন করতে পারবেন—এমন প্রস্তাবও রয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব প্রবাসীর জমি, বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা অর্থ বেআইনিভাবে দখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে, দখলদার ওই সম্পত্তি থেকে যে আয় করেছেন, তার সমপরিমাণ অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। মামলায় তদন্তের প্রয়োজন হলে জুডিশিয়াল অফিসারের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্তের ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতার প্রস্তাব মামলার শুনানি চলাকালে কোনো প্রবাসী বা আবেদনকারী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের থাকা উচিত বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসীদের সম্পত্তি ও অধিকার সুরক্ষিত হলে দেশে তাদের বিনিয়োগের পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে। এতে প্রবাসীদের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রস্তাবগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রত্যাশা—প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, সম্পত্তি বিরোধ ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং প্রবাসীদের জন্য একটি দ্রুত, সহজ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা, তাদের কষ্টার্জিত সম্পদ নিরাপদ রাখা এবং দেশে বিনিয়োগে আস্থা বাড়াতে ‘প্রবাসী ট্রাইব্যুনাল’ বাস্তবায়নের দাবি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।










