অভিযোগ

দাউদকান্দিতে জমি দখল করে পার্টি অফিস নির্মাণের অভিযোগ: আদালতের দ্বারস্থ জমির মালিক।

সালমা আক্তারঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দী উপজেলার মালীগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জবরদখল করে সেখানে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একটি পার্টি অফিস নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল কবির দাবি করেছেন, বৈধভাবে ক্রয় ও নামজারি সম্পন্ন করা জমিতে নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া, নির্মাণসামগ্রী লুট এবং পরে ওই জমিতে টিনশেড পার্টি অফিস নির্মাণ করা হয়।তিনি এ ঘটনায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মালীগাঁও মৌজার বিএস ৩৪৫ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বিএস ২৪৭ নম্বর দাগের জমির অংশ সেলিম ভূঁইয়ার কাছ থেকে ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৪৯০৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে এবং বাচ্চু মিয়ার ওয়ারিশ মোঃ আমিনুল ইসলাম গং-এর কাছ থেকে ২০২৬ সালের ১১ মে ২১১০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে মোট ১৩.৫০ শতক জমি ক্রয় করেন অ্যাডভোকেট মোঃ রেজাউল কবির। পরবর্তীতে তিনি নিয়ম অনুযায়ী নামজারি সম্পন্ন করে জমিতে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর স্থানীয় জসিম, দিদার, সাদ্দাম, জাহাঙ্গীর, মাহফুজসহ কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া হয় এবং জমিতে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট রেজাউল কবিরের দাবি, গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তার প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের নির্মাণসামগ্রী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার মালিকানাধীন বলে দাবি করা ওই জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে সেখানে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একটি পার্টি অফিস স্থাপন করা হয়।তিনি আরও জানান, নিজের বৈধ মালিকানাধীন সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে অনিচ্ছুক। এদিকে, এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ কিংবা বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বক্তব্য দেননি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। আইনি দৃষ্টিকোণ আইনজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধ মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল, নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি, লুটপাট বা বেআইনিভাবে স্থাপনা নির্মাণ—এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন, সম্পত্তি-সংক্রান্ত আইন এবং চাঁদাবাজি ও দখলবিরোধী বিধানের আওতায় বিচারযোগ্য অপরাধ হতে পারে। জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিল, নামজারি, দখল এবং অন্যান্য প্রমাণ আদালতের মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। প্রশাসনের দায়িত্ব হলো আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করা, যাতে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আইনের প্রয়োগে বৈষম্য না ঘটে। একই সঙ্গে অভিযোগ সত্য হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে নিরপরাধ ব্যক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।আদালতের চূড়ান্ত রায় বা প্রশাসনিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে সেটিই আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button