

আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি ইমরান ইসলামঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং সরকারি দপ্তরের নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরগুনার আমতলীতে এক ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস (NSS)-এর যৌথ সহযোগিতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও আমতলী থানা প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা উপহার প্রদান করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী এবং আমতলী থানার পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইয়াকুব হোসাইন আনুষ্ঠানিকভাবে চারাগাছ গ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পিপলস ভয়েস অব আমতলীর এডমিন ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জোসেফ মাহতাব, আমতলী প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিভিএ-এর এডমিন মহসিন মাতুব্বর, বরগুনা বনবিভাগের আমতলীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এএফপিসি) ও পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের প্রতিনিধি মোঃ মনিরুল হক, এনএসএস-এর ক্লাইমেট চেঞ্জ ও ডিআরএফ ফোকাল পারসন তাজমেরী জাহান লিখনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বব্যাপী উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে বরগুনাও জলবায়ু ঝুঁকির অন্যতম এলাকা। এ বাস্তবতায় বৃক্ষরোপণ শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জনসাধারণের মধ্যেও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি হবে। বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, বনবিভাগ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। সরকারি দপ্তরগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মপরিবেশ হবে আরও স্বাস্থ্যসম্মত, ছায়াময় ও মনোরম। উপস্থিত অতিথিরা পিপলস ভয়েস অব আমতলী (পিভিএ) এবং এনএসএস-এর এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী, জনকল্যাণমুখী ও প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেন। তারা ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনসমাগমস্থলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষ্ণচূড়া শুধু দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছই নয়; এটি নগর ও গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সবুজ আবরণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর অবদান রাখবে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকারি প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত এমন উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে আমতলী একসময় আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য উপজেলায় পরিণত হবে।পরিবেশ সংরক্ষণে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হতে পারে একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান শক্তি।










