

নিজস্ব প্রতিবেদক মোঃ সোহেলঃ
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই মামলার অন্যতম পলাতক আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘদিনের আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে আটকের পর আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।ঘটনার প্রেক্ষাপট ও জনস্বার্থ:১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমান নিহত হন। সেই সময়কার ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছিল। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর একজন আসামির ধরা পড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই গ্রেফতার প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনি দৃষ্টিভঙ্গি ও রাষ্ট্রীয় বার্তা:একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা বদ্ধপরিকর। মেজর মোজাফফরকে আটকের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও তথ্যের আধুনিকায়নকেই নির্দেশ করে। এটি কেবল একটি গ্রেফতার নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি জোরালো বার্তা—’অপরাধী যতই প্রভাবশালী বা সুচতুর হোক না কেন, আইনের হাত থেকে নিস্তার নেই। প্রধানমন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ: রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জনগণের প্রত্যাশা, এই গ্রেফতারের মাধ্যমে তদন্তের জট আরও দ্রুত খুলবে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার নেপথ্যের কুশীলব এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা জোরদার করা জরুরি। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি খুঁটিনাটি উন্মোচন করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতা। পরিশেষ: জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মেজর মোজাফফরের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আইনের শাসন সমুন্নত করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন কোনোভাবেই মাঝপথে থমকে না যায়। দেশের জনগণ এখন প্রত্যাশা করে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উন্মোচিত হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষত নিরাময় হবে।[বি.দ্র.: এই প্রতিবেদনটি জনস্বার্থে এবং সংবাদপত্রের নীতিমালার আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের প্রতিটি তথ্য যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।] আমার পরামর্শ: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার সময় অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (ডিবি বা সেনাবাহিনী) আনুষ্ঠানিক বিবৃতির তথ্যসূত্র নিশ্চিত করে নেবেন, যাতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা সৃষ্টি না হয়।










