

আব্দুল্লাহ আল মামুন রায়পুরঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে ১৮ মাস বয়সী শিশু কানিজ ফাতেমা নিখোঁজের ৬০ ঘণ্টা পর প্রতিবেশী এক বাড়ির বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ আড়াই দিনের উৎকণ্ঠা শেষে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে চরমোহনা ইউনিয়নের পশ্চিম চরমোহনা গ্রামের রায় বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি উদঘাটিত হয়।নিহত কানিজ ফাতেমা ওই গ্রামের বাসিন্দা কাঞ্চন হোসেন ও জান্নাতুল ফেরদৌস মেরীন দম্পতির একমাত্র কন্যাসন্তান। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে শিশুটি বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননিশনিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুর থানা পুলিশ অভিযুক্ত প্রতিবেশী তোফায়েল আহাম্মদের বসতবাড়ির পেছনে থাকা বাথরুমের সেপটিক ট্যাংকে তল্লাশি চালায়। সেখান থেকেই শিশু কানিজ ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে একই বাড়ির তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।আটককৃতরা হলেন:তোফায়েল আহাম্মদ,ফিরোজা বেগম ও নিশু আক্তার।নিহত শিশুর মা জান্নাতুল ফেরদৌস মেরীন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, জমিজমা নিয়ে তোফায়েল আহাম্মদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল তাঁদের। ঘটনার দিন সকালে শিশু কানিজ খেলনা নিয়ে তোফায়েলের ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছিল। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। তাঁর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই তোফায়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় জান্নাতুল ফেরদৌস মেরীন বাদী হয়ে রায়পুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ওই রাতেই এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। উত্তেজিত জনতা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসির দাবি জানান।রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।










