

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জাতি হারালো এক অভিভাবককে সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি।ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নিজের দক্ষতা ও সততার স্বাক্ষর রেখেছেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই তিনি আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি যে সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন, তা দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর সততা, আদর্শ ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণার চিরস্থায়ী উৎস হয়ে থাকবে। আমি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমি একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।










