আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ আফ্রিকায় তীব্রতর অভিবাসন সংকট: অস্থিরতা নিরসনে সংলাপের আহ্বান বিশেষজ্ঞের।

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
​দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে চলমান অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট নিরসনে সরকার, স্থানীয় নাগরিক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. গিডিয়ন চিটিঙ্গা। তিনি মনে করেন, কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং অভিবাসনের মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ এবং সামাজিক সহাবস্থানের কার্যকর উপায় খুঁজে বের করাই এই সংকটের টেকসই সমাধান।
​সাম্প্রতিক সময়ে ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ আন্দোলনের ব্যানারে ২০টিরও বেশি নাগরিক সংগঠন দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে অনথিভুক্ত বিদেশি নাগরিকদের দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগের দাবি জানিয়ে গত ৩০ জুন পর্যন্ত একটি অনানুষ্ঠানিক সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচি ঘিরে পুরো দেশটিতে এক ধরনের অস্থিরতা ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনথিভুক্ত অভিবাসীদের কারণে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং কর কাঠামোয় অভিবাসীদের যথাযথ অবদান না থাকা। অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উন্নত জীবনের আশায় আসা অনেক অভিবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী অধ্যাপক ফিরোজ কাচালিয়া জানান, দেশব্যাপী বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন র্যান্ড ব্যয় হয়েছে।আয়োজকরা বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বেশ কয়েকটি এলাকায় লুটপাট ও গুলি বিনিময়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে ড. গিডিয়ন চিটিঙ্গা বলেন, “দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনীতিতে স্থানীয় নাগরিক ও অভিবাসী—উভয় পক্ষই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও বিদ্বেষ প্রশমনে একটি গঠনমূলক সংলাপই পারে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান দিতে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে একটি বাস্তবভিত্তিক অভিবাসন নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে।পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধের পাশাপাশি সামাজিক সংহতি ও শান্তি বজায় রাখতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক ও নীতিগত উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button