তদন্ত

মোবাইল না পেয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি: খুঁটির চূড়ায় কিশোরের রুদ্ধশ্বাস অবস্থান।

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় অভিমান করে পল্লী বিদ্যুতের সুউচ্চ খুঁটির চূড়ায় চড়ে বসেছিল ১৩ বছরের এক কিশোর। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের চিমনা গ্রামে এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টার উৎকণ্ঠা শেষে ফায়ার সার্ভিসের দক্ষতায় কিশোরটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর বাকপ্রতিবন্ধী। বেশ কিছুদিন ধরে সে পরিবারের কাছে একটি স্মার্টফোন কিনে দেওয়ার বায়না ধরছিল। কিন্তু অভাবের সংসার ও অন্যান্য পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার বাবা ফোনটি কিনে দিতে পারেননি। আজ শুক্রবার সকালে এ নিয়ে বাড়িতে মান-অভিমান হয়। একপর্যায়ে ক্ষোভে ও অভিমানে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা গ্রামের পাশের আলুখেতে থাকা পল্লী বিদ্যুতের উচ্চ ভোল্টেজের (এইচটি) খুঁটিতে উঠে পড়ে।সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় কৃষকরা আলুখেতে কাজ করার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করেন, কিশোরটি বিদ্যুতের খুঁটির একদম মাথায় বসে আছে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী দ্রুত তানোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেয়। এদিকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হয়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় কিশোরটি।খবর পাওয়ার পরপরই তানোর ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ততক্ষণে খুঁটির নিচে উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বিশেষ মই ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুঁটির চূড়ায় পৌঁছান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা আতঙ্কিত কিশোরকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।তানোর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সাব-অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান:সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। কিশোরটি উচ্চ ভোল্টেজের লাইনের খুব কাছে ছিল। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে তাকে জীবিত উদ্ধার করি। পরে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধার হওয়ার পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা। কিশোরটি বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তার ভেতরের ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পেরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের এই দ্রুত পদক্ষেপ ও গ্রামবাসীদের সচেতনতায় একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল তানোরবাসী।

Back to top button