

মো. আলাউদ্দীন মন্ডল রাজশাহী:
লাগাতার বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার ফলে রাজশাহী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সবজির ব্যাপক ফলন হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে সবজির প্রচুর সরবরাহ রয়েছে। উৎপাদিত পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে ভোক্তাদের মাঝে, অন্যদিকে ন্যায্যমূল্য পেয়ে দারুণ খুশি উৎপাদনকারী কৃষকরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালীগঞ্জ হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জমজমাট কালীগঞ্জ হাট ও কৌশলগত অবস্থান তানোর, মোহনপুর এবং গোদাগাড়ী—এই তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় কালীগঞ্জ হাটটি এই অঞ্চলের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জমজমাট সবজির বাজার। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে এখানে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত টন সবজি বেচাকেনা হয়। আশানুরূপ ফলন ও প্রচুর আমদানির কারণে এবার এই হাটে সবজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে বিভিন্ন সবজির সরবরাহ ও দাম
সরেজমিন কালীগঞ্জ হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভাদ্র-আশ্বিনের এই সময়ে বাজারে মৌসুমী সবজির ভরপুর উপস্থিতি রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখর পুরো হাট। বাজারের বিভিন্ন সবজির দরদাম নিচে দেওয়া হলো:বেগুন: মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।পটল ও করলা: প্রতি কেজি পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙে ও চিচিঙ্গা: এই সবজিগুলো প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লাউ ও মিষ্টি কুমড়া: আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়া কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আগাম শীতকালীন সবজি: বাজারে ইতোমধ্যে শিম ও ফুলকপির মতো কিছু আগাম শীতকালীন সবজিরও দেখা মিলছে, যা ক্রেতারা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই কিনছেন। কৃষকদের সন্তোষ তানোর উপজেলার চণ্ডিপুর এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, “এ বছর নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় সবজির ক্ষেতে সেচ খরচ অনেক বেঁচে গেছে। ফলনও হয়েছে খুব ভালো। বাজারে যে দাম পাচ্ছি, তাতে উৎপাদন খরচ বাদে বেশ ভালো লাভ থাকছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হবেন।







