

ডেক্স রিপোর্টঃ
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার/কারা বিভাগে কর্মরত কারারক্ষী মো. জহুরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। জহুরুল ইসলামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়। ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। জহুরুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, মো. মোস্তফা, পিতা—নজরুল ইসলাম, কারারক্ষী নম্বর ৩২৫৩৮, তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন। জহুরুলের দাবি, মোস্তফা ও তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম তাঁর বাবা মো. আব্দুস ছাত্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন।তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই অর্থের মধ্যে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জহুরুল ইসলামের নিজ নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হয়। তবে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ওই আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন জহুরুল ইসলাম। এ বিষয়ে জহুরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে করা একটি মামলার বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৫৯পি/২০২৬, তারিখ ২ আগস্ট ২০২৬-এর রায়ে/আদেশে তিনি আদালতের কাছ থেকে ডিক্রি পেয়েছেন।তবে আদালতের সংশ্লিষ্ট নথি সরাসরি যাচাই ছাড়া ওই আদেশের প্রকৃতি ও ফলাফল সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেখানে তাঁর পিতার নাম মো. আকরাম আলী, মাতার নাম জয়নব বেগম, ঠিকানা কোনাপাড়া, বাগমারা, রাজশাহী এবং কর্মস্থল হিসেবে জয়পুরহাট কারাগারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারাগারে প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন অনিয়ম, মাদক ও অন্যান্য বাণিজ্য এবং চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার মতো অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।একই নামে একাধিক ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকায় অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পূর্ণ পরিচয়, পদবি, কর্মস্থল ও কারারক্ষী নম্বর সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। জহুরুল ইসলামের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয় রয়েছে। তাঁকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। আইনগতভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। একইভাবে কোনো অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে কি না, সেটিও যথাযথ তদন্ত, আদালতের আদেশ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে জেনেশুনে কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন ফৌজদারি অভিযোগ বা মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় শাস্তির বিধান রয়েছে। আবার কোনো মামলায় অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০ ধারায় আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।অন্যদিকে, কারও বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ থাকলে দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারার বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে কোনো বক্তব্য সত্য, জনস্বার্থে প্রকাশিত বা সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ও আইনের নির্ধারিত ব্যতিক্রম ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচিত হয়।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি উঠেছে—অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা ব্যাংক লেনদেন, আদালতের নথি, মামলা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে।বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করা হলো। তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।










