পিরোজপুর

আমতলীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপন।

আমতলী উপজেলা প্রতিনিধী ইমরান ইসলামঃ
জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান—টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনার আমতলীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এবং আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ এবং মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ (কলোস্ট্রাম) খাওয়ানো এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান করানো প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। মাতৃদুগ্ধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, অপুষ্টি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিসীম অবদান রাখে। একই সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ পান করানো মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। তিনি পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে মাতৃদুগ্ধবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. হিমেল পাল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশু জন্মের পরে তাকে প্রথম ছয় মাস মায়ের দুগ্ধ পান করাতে হবে এ সময় সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। সুস্থ, মেধাবী ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, আমতলী সাংবাদিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, আমতলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক আবু জিহাদ, সাংবাদিক শিউলি মালা এবং মো. ইমরান হোসেন। সিনিয়র সাংবাদিক মো: জাকির হোসেন বলেন শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে মাতৃদুগ্ধ পান শুরু করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর উপযুক্ত পরিপূরক খাবারের সঙ্গে দুই বছর বা তারও বেশি সময় পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন মাতৃদুগ্ধ সম্পর্কে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা দূর করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং’তারুণ্যের আলো’ যুব ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

Back to top button