

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে, গোপালগঞ্জে ছুটে এসেছেন এক যুবক। জেলা শহরের নীচুপাড়া এলাকার প্রেমিকা সীমার বাড়িতে উঠেছেন তিনি। ইতোমধ্যে সীমাকে বিয়ে করেছেন ওই চীনা যুবক। নবদম্পতিকে একনজর দেখতে ভিড় করছে আশপাশের লোকজন। সীমার পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় গোপালগঞ্জের মেয়ে সীমা আক্তারের সঙ্গে চীনা নাগরিক লিউ সিলিয়ানের। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব এবং পরে তা রূপ নেয় প্রেমে। প্রেমের টানে গত শুক্রবার চীন থেকে সরাসরি বাংলাদেশে আসেন লিউ সিলিয়ান। এরপর সোজা চলে আসেন গোপালগঞ্জ শহরের নীচুপাড়ায়, সীমার বাড়িতে। ছেলের মা–বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের সম্মতিতে লিউ সিলিয়ান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর একই দিন কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে সীমা ও লিউ সিলিয়ানের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর লিউ সিলিয়ানের নতুন নাম রাখা হয় মো. সাদেকুর রহমান সানি। এই বিয়ের মাধ্যমে সফল পরিণতি ঘটে এক আন্তঃদেশীয় প্রেমের গল্পের। আজ সোমবার বিকেলে আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে সীমার বাড়িতে আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান। সীমার মা–বাবা মেয়ের ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের সুখ চিন্তা করে ছেলেকে মেনে নেন এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। এতে সীমার পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। সীমার বাবা মো. আবুল হোসেন হাওলাদার বলেন, ছেলে ও মেয়ের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা দেখে আমরা রাজি হয়ে যাই। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বিবাহ হয়েছে এবং আজ আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে আয়োজন করা হয়েছে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। সীমা আক্তার বলেন, আমি খুব খুশি, কারণ আমার ভালোবাসার মানুষ হাজার মাইল দূর থেকে শুধু আমাকে বিয়ে করতে এসেছে। ও সত্যিই ভালো মনের মানুষ এবং আমাকে খুব ভালোবাসে। আমি জানতাম, ও যদি সত্যি ভালোবাসে, তাহলে অবশ্যই আসবে—আর সে তা করেছে। সীমার পরিবারের একজন সদস্য বলেন, প্রথমে আমরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু ছেলেটির আচরণ ও ব্যবহার দেখে বুঝতে পারি সে সত্যিই ভালো মনের এবং আন্তরিক। এলাকাবাসীও সানির সাহস, ভালোবাসা ও সংস্কারমিশ্রিত সিদ্ধান্ত দেখে অভিভূত। চীনা যুবক সানি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো। সীমা ও তার পরিবার আমাকে আপন করে নিয়েছে। আমি সীমাকে খুব ভালোবাসি। সকলের দোয়া চাই, যেন সীমাকে সারা জীবন ভালোবাসতে পারি। নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখন আমি মো. সাদেকুর রহমান সানি। সীমার পরিবারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ, তারা আমাকে পরিবারের একজন হিসেবে গ্রহণ করেছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এবং পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি হলে সানি শিগগিরই স্ত্রী সীমাকে নিয়ে নিজ দেশ চীনে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন।এদিকে, নতুন এই চীনা জামাইকে দেখতে প্রতিদিন সীমাদের বাড়িতে ভিড় করছে আত্মীয়স্বজন ও পাড়া–প্রতিবেশীরা।










