

মোঃ সেলিম রানা সৌদি প্রতিনিধি:
পবিত্র মক্কা নগরীর প্রাণকেন্দ্রে হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে আন্তর্জাতিক মানের আনজুম হোটেল। মনোরম পরিবেশ, উন্নতমানের আবাসন ব্যবস্থা, খাবারের বৈচিত্র্য, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রশিক্ষিত কর্মীদের সেবার কারণে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে হোটেলটি একটি পরিচিত নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পবিত্র মসজিদুল হারাম শরিফের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে হজ ও ওমরাহ পালন করতে আসা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে আনজুম হোটেলের অবস্থান বিশেষভাবে সুবিধাজনক।হোটেলটিতে প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিথিদের আগমন ও অবস্থান রয়েছে।বহুতলবিশিষ্ট এই হোটেলের প্রতিটি বিভাগে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও অতিথিসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। হোটেলের স্টাফদের সবসময় পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অতিথিদের সঙ্গে কীভাবে সুন্দর ও পেশাদার আচরণ করতে হবে, কীভাবে দ্রুত সেবা দিতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে—এসব বিষয়েও কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।হোটেল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিদিন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্টাফদের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিটের আলোচনা ও মতবিনিময় করেন। এ সময় দিনের কাজের পরিকল্পনা,অতিথিদের সেবা,কর্মীদের দায়িত্ব,পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা এবং হোটেলের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বিভিন্ন নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে কর্মীদের মধ্যে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।আনজুম হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ হলো এর খাবারের বৈচিত্র্য। বিভিন্ন দেশের অতিথিদের কথা বিবেচনা করে নানা ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয়। শত শত আইটেমের খাবার বুফে ব্যবস্থায় সাজানো হয়, যেখানে অতিথিরা বিভিন্ন স্বাদ ও পছন্দ অনুযায়ী খাবার গ্রহণের সুযোগ পান। সকাল, দুপুর ও রাতে—তিন বেলাই অতিথিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা থাকে।হোটেলটিতে কর্মরত বাংলাদেশি স্টাফ ওয়েটার মোঃ সেলিম রানা বলেন, আনজুম হোটেলে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত। এটি আন্তর্জাতিক মানের একটি হোটেল। এখানে কাজ করতে এসে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হচ্ছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। আমি আনজুম হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আমি সবসময় হোটেলের নিয়ম-কানুন মেনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এখানে আসেন। তাদের সেবা করার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের সংস্কৃতি ও আচরণ সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়। একজন বাংলাদেশি হিসেবে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের সুনাম ধরে রাখার চেষ্টা করি।হোটেলের স্টাফ আকবর আলী বলেন, মক্কা নগরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরে কাজ করার সুযোগ আমাদের জন্য গর্বের। আমরা একটি সুন্দর ও ভালো কর্মপরিবেশ চাই। অতিথিদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা আরও উন্নত করার চেষ্টা করি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হোটেল ও আতিথেয়তা খাতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা এবং অতিথিদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আনজুম হোটেলের কর্মীদের ভাষ্য, অতিথির সন্তুষ্টিই তাদের প্রধান লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পারস্পরিক সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পবিত্র মক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজি ও ওমরাহ পালনকারীদের আগমনকে কেন্দ্র করে হোটেলগুলোর ওপর ব্যাপক দায়িত্ব থাকে।সেই দায়িত্ব পালনে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আনজুম হোটেলের কর্মীরাও সেই দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সেবা, খাবারের বৈচিত্র্য, পরিচ্ছন্নতা, কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং পেশাদার কর্মপরিবেশের কারণে মক্কার হোটেল খাতে আনজুম হোটেল তার নিজস্ব অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে।









