

ডেক্স রিপোর্টঃ
শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, দোয়া ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে ১৫ আগস্ট ২০২৫ সারাদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী পালন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় এবং মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশ নেন। দলীয়ভাবে এবারের জন্মবার্ষিকী পালনে কোনো ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন না করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের কেক কাটা বা অন্য কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছিল।দেশজুড়ে দোয়া ও মিলাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো পৃথকভাবে মিলাদ, দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করে।দোয়া মাহফিলগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী শহীদ, ১৯৯০ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও বিশেষ দোয়া করা হয়।শোকের আবহে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়া বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল আবেগ ও শ্রদ্ধার আবহ। দলের নেতাকর্মীরা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায় স্মরণ করে বক্তব্য দেন এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।বিভিন্ন স্থানীয় কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি দলটির নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।দলীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্ব জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নেতারা বলেন, দলের স্বার্থে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য ও বিভেদ পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মসূচিতে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ দলীয় ঐক্যের একটি চিত্র তুলে ধরে। শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে আয়োজিত কর্মসূচিতেও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন এবং দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।প্রশাসনের সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাজনৈতিক কর্মসূচি হলেও সাধারণ মানুষের চলাচল, জনদুর্ভোগ এবং স্থানীয় পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয়—এ বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের পাশাপাশি আলোচনা সভা এবং কিছু স্থানে এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের মতো মানবিক কর্মসূচিও পালন করা হয়।গোপালগঞ্জে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।শেরপুরের ঝিনাইগাতীতেও উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁ, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, বগুড়া, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলোর উদ্যোগে দোয়া, মিলাদ ও স্মরণমূলক কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। পুষ্পস্তবক ও কবর জিয়ারত প্রসঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী ১৫ আগস্ট ২০২৫-এর কর্মসূচিতে কবর জিয়ারত বা কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে পাওয়া যায় না। ফলে সংবাদ প্রতিবেদনে এটিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করা তথ্যগতভাবে সঠিক হবে না। তবে স্থানীয় কোনো ইউনিট নিজস্ব উদ্যোগে এমন কর্মসূচি পালন করে থাকলে সংশ্লিষ্ট স্থান, সময় ও আয়োজকদের তথ্য যাচাই করে পৃথকভাবে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যেতে পারে।স্মৃতির পাতায় এক রাজনৈতিক অধ্যায় বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকীর আয়োজন তাই ছিল শুধু জন্মদিন উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এটি ছিল দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও নেতৃত্বকে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কেক কাটা কিংবা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন পরিহার করে দোয়া ও মিলাদকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা একদিকে যেমন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সব মিলিয়ে, ১৫ আগস্টের দিনটি বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে হয়ে ওঠে স্মরণ, শ্রদ্ধা, দোয়া ও সাংগঠনিক ঐক্যের এক আবেগঘন দিন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দলীয় ঐক্য অটুট রেখে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।








