বগুড়া

নন্দীগ্রামে পুলিশ ও বিএনপি বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়ার অশুভ সিন্ডিকেট:বিচার চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার।

আসিফ আহমেদ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার নন্দীগ্রামে থানা পুলিশ ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়ার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক অশুভ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এই চক্রের কারণে এলাকায় আইনি প্রতিকার পাওয়ার বদলে উল্টো চরম হয়রানি, অর্থদণ্ড ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে। সম্প্রতি এক ভুক্তভোগী পরিবার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিচার চাইতে গিয়ে এই চক্রের হাতে পৈশাচিক হয়রানির শিকার হওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে আসা মূল তথ্য:স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। ৫ই আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে সম্প্রতি নন্দীগ্রাম থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে অলিখিত ‘পার্টনারশিপ’ বা দালালি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তিনি। থানায় কোনো সাধারণ মানুষ অভিযোগ নিয়ে গেলেই সেখানে মধ্যস্থতাকারী বা ‘মামলা ব্রোকার’ হিসেবে হাজির হন এই বহিষ্কৃত নেতা।ভুক্তভোগী পরিবারের লোমহর্ষক বয়ান:ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, একটি ন্যায্য পাওনা ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তারা আইনগত সহায়তার আশায় নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু থানায় ওসির কক্ষের আশপাশেই ওহি ও মধ্যস্থতাকারী সেজে বসে থাকেন জাকারিয়া। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায্য বিচার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন।ভুক্তভোগীরা সেই দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দৃশ্যপট মুহূর্তেই বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, জাকারিয়া উল্টো প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা (মোটা অঙ্কের টাকা) নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটির বিরুদ্ধেই কাউন্টার মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখান। পুলিশের অসাধু কর্মকর্তারাও তখন ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হন এবং তাদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। থানার মূল চালিকাশক্তি এখন‘মামলা ব্রোকার’ জাকারিয়া! এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাকারিয়া ও পুলিশের এই অশুভ সিন্ডিকেট এখন নন্দীগ্রাম থানার মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। যেকোনো পারিবারিক, সামাজিক বা জমি সংক্রান্ত বিরোধ তৈরি হলেই জাকারিয়া সেখানে গিয়ে পুলিশি ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করেন। এরপর থানা পুলিশকে ব্যবহার করে এক পক্ষকে কোণঠাসা করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। এই প্রকাশ্য চাঁদাবাজির টাকার একটি বড় অংশ চলে যায় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের পকেটে, আর বাকিটা জমা হয়‘মামলা ব্রোকার’ জাকারিয়ার তহবিলে।স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য:নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা জানান, জাকারিয়া দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার এই অপরাধমূলক সিন্ডিকেট কোনোভাবেই থামছে না। পুলিশের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার আশকারা পেয়েই সে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষ এখন থানায় যেতে ভয় পাচ্ছে। তারা এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং নন্দীগ্রাম থানার আইনি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button