অপরাধ

সীমান্তঘেঁষা হাইমচরে মাদকের ছোবলে যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, ইয়াবাসহ ২জন গ্রেপ্তার।

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার ৬ নম্বর চরভৈরবী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক বিস্তার, অপরাধ প্রবণতা এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি একই এলাকায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা এবং পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্তবর্তী এ জনপদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরভৈরবী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দারগঞ্জ এলাকায় জসিম উদ্দিন স্কুল সংলগ্ন বাসিন্দা মো. দুলাল মাঝির ছেলে মো. মনির হোসেনকে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে হাইমচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আইনানুগ তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো কারণকে নিশ্চিতভাবে বলা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। অপরদিকে, একই ইউনিয়নের শহর আলীর মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড ইসলামিয়া বাজার কাঠেরপোল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বোরহান ও আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে হাইমচর থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে চাঁদপুরে প্রেরণ করা হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে মাদক পাচারকারীরা বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে। নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট এবং টহল জোরদার না হলে মাদক ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়। ফলে তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, পারিবারিক সহিংসতা, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ইয়াবা উৎপাদন, বহন, সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় বা সরবরাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধের ধরন ও জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ অনুযায়ী দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।পাশাপাশি কোনো অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ীও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।সচেতন মহল মনে করছে, শুধু গ্রেপ্তার করলেই মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের মূল হোতা, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও সীমান্তভিত্তিক সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকের উৎস শনাক্ত করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা এবং জব্দকৃত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা। কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু।মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, কমিউনিটি পুলিশিং এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, যুবকদের কর্মসংস্থান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পরিবারভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি।এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিজিবি এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সীমান্তবর্তী চরভৈরবী ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত, অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button