চাঁদপুর

ঈদে মেঘনায় নৌপথ নিরাপত্তায় তৎপর নীলকমল নৌ পুলিশ।

ডেক্স রিপোর্টঃ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী এলাকায় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মেঘনা নদীতে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও কোরবানির পশু পরিবহন, গরু ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং নৌপথে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। ঈদকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী ও পশুবাহী ট্রলারের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করেছে নৌ পুলিশ।নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর কংকন কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল, নিরাপত্তা তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এসআই কাজল চন্দ্র মজুমদার, কনস্টেবল নয়ন সাহা, কনস্টেবল জসিম উদ্দিন, কনস্টেবল মোঃ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে মেঘনা নদীপথে গরুবাহী ট্রলার ও যাত্রীবাহী নৌযানের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে দুর্ঘটনা, চুরি, ছিনতাই, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও নৌডাকাতির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নীলকমল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। ইন্সপেক্টর কংকন কুমার বিশ্বাস বলেন, নৌপথে যাত্রী ও গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা দুর্ঘটনা না ঘটে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধ্যাদেশ, নৌনিরাপত্তা বিধিমালা এবং ফৌজদারি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে পশু পরিবহন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া নৌযান পরিচালনা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই নৌযান চালক, মাঝি ও ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নৌ পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, বৈরী আবহাওয়ায় সতর্কভাবে নৌযান চালানো এবং নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী বা পশু বহন না করার বিষয়ে নিয়মিত মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা জানান, ঈদ মৌসুমে নৌ পুলিশের তৎপরতা থাকায় তারা স্বস্তির সঙ্গে নদীপথ ব্যবহার করতে পারছেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার করায় নৌডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে বলে মন্তব্য করেন তারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌ পুলিশের এই দায়িত্বশীল ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মেঘনা নদীপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেকাংশে কমে আসবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button