

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের আকাশে হঠাৎ রহস্যময় আলোর ঝলক দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৈকতের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্টসংলগ্ন আকাশে কয়েক মুহূর্তের জন্য অস্বাভাবিক উজ্জ্বল আলো দেখা যায়। প্রায় এক মিনিট স্থায়ী হওয়া এ দৃশ্য অনেকেই মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যেই হঠাৎ আকাশে দীর্ঘ আলোর রেখার মতো একটি উজ্জ্বল বস্তু দেখা যায়। প্রথমে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে না পেরে আতঙ্কিত হলেও পরে সেটি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও নানা জল্পনা। সৈকতে অবস্থানরত পর্যটকরা বিস্ময়ের সঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘটনাটি উপভোগ করেন। সুগন্ধা পয়েন্টে থাকা স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন,আমরা কয়েকজন বন্ধু সৈকতে বসে ছিলাম। হঠাৎ আকাশে অদ্ভুত ধরনের আলো দেখতে পাই। দ্রুত মোবাইলে ভিডিও করি। আলোটি কিছুক্ষণ স্থায়ী ছিল, তবে এটি আসলে কী ছিল বুঝতে পারিনি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মন্তব্য করতে দেখা যায় নেটিজেনদের। কেউ একে মহাকাশযান, কেউ স্যাটেলাইট, আবার কেউ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলোর প্রতিফলন বলে ধারণা করছেন। অ্যাডভোকেট কেফায়েত উল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন,ইরানি মিসাইলের আলোর মতো মনে হয়েছে। ঘটনাটি সত্যিই বিস্ময়কর। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সরকারি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি আবহাওয়াজনিত কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন,আলোটি ভারতের জলসীমার দিক থেকে দেখা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই এটি দূরপাল্লার কোনো মিসাইল বা মহাকাশ প্রযুক্তি পরীক্ষার আলোর প্রতিফলন হতে পারে বলে মনে করছেন। তবে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সময়ে বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, রকেট পরীক্ষা কিংবা মহাকাশ গবেষণার কারণে আকাশে এ ধরনের আলোর ঝলক মাঝে মধ্যেই দেখা যায়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দিগন্তজুড়ে এমন দৃশ্য তুলনামূলক বেশি চোখে পড়ে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রহস্যময় এই আলোর উৎস নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা থাকলেও ঘটনাটি কক্সবাজারের পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মিলিত কোনো অজানা ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন










