রাজশাহী

মোহনপুরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রেসক্লাব সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ।

রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে‘পল্টু শাহিন বাহিনী-এর দৌরাত্ম্যে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি খোদ বিএনপি নেতা ও পুলিশ। ঠুনকো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৯টি হত্যাকাণ্ড, ছুরি চাকু দিয়ে দিয়ে গুরুতর জখম, মেরে দাত ফেলে দেওয়া, উপজেলা চত্বর হতে দিনে দুপুরে মোটরসাইকেল চুরি, গরু চুরি, মহাসড়কে ছিনতাইসহ অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে ঘটছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একের পর এক সহিংসতা, মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌগাছি, ত্রিমোহনী এলাকায় যারা মাদক ব্যবসা করে সেসব মাদক ব্যবসায়ীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে মাসিক মাসোহারা আদায়, নিয়মিত মাদক সেবন করে গণউপদ্রব সৃষ্টি, হুমকি ধামকিসহ চাঁদাবাজির মত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছে বজরপুর গ্রামের শাহিন ওরফে পল্টু শাহিন (৩৪)। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশের অবস্থান আগের মত শক্তপোক্ত না হওয়ায় অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে বাড়ছে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও বিশৃঙ্খলা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে মৌগাছি ইউনিয়নের ত্রিমোহনী এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশন দখল ও তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা।ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শাহীন সাগর জাতীয় দৈনিক ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি পত্রিকার রাজশাহী করেসপন্ডেন্ট ও মোহনপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জানান—খবর পেয়ে তিনি তার সঙ্গে থাকা জাতীয় দৈনিক চৌকস পত্রিকার ব্যুরো প্রধান ও মোহনপুর উপজেলা ঐক্য প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ রাজিব খান ও ক্যামেরাপারসন মোঃ আল-আমিন সহকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পল্টু শাহিনের নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত তাদের ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ রয়েছে, পল্টু শাহিন, বসন্তপুর গ্রামের সেলিম (৪২), খাড়ইল গ্রামের শিমুল বিশ্বাস (৪০) সহ কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করে এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিক শাহিন সাগরের উপর হামলে পড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে চোখ উপড়ে ফেলাসহ প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পল্টু শাহিন সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয় এবং তার সহযোগী সেলিম চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংস হুমকি দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৌসুমি ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারী বলেন, পল্টু শাহিন মদ্যপ অবস্থায় আমাদের মৌসুমি ফিলিং স্টেশন এসে যুবদল নেতা পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তেল সংগ্রহ করে। তেল নিতে আসা সাধারণ জনগন তেল না পেলেও পল্টু শাহিন তার লোকদের টাংকি ফুল করে তেল দিতে বাধ্য করে। গত কয়েকদিন আগে সে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে হ্যান্ড মাইক নিয়ে তেল নিতে আসা জনগণকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রায় ৪৫ টির মত মোটরসাইকেলের টাংকি ফুল করে তেল নিয়েছেন। এখান থেকে জারকিনে পেট্রোল নিয়ে সে বাইরে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে। তার থেকে আমরা এখনও ৩ হাজার ৩’শ ৮০ টাকা তেলের বাকি পাব।স্থানীয়দের অভিযোগ,পল্টু শাহিন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক সেবন, পেট্রোল পাম্প দখল, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নিজেকে সাবেক যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে সে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলে কথা বলার সাহস পায়না। এলাকাবাসীর দাবি, পল্টু শাহিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।সাংবাদিক মহল এ ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Back to top button